আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান আগামী সোমবার থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সম্মান জানাতে ২০টি বড় তেলবাহী ট্যাঙ্কার পাঠাচ্ছে। রোববার (২৯ মার্চ) ওয়াশিংটন ডিসি থেকে ফেরার পথে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান। ট্রাম্প এই উদ্যোগকে ‘শ্রদ্ধার প্রতীক’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি তেহরানের পক্ষ থেকে বিশেষ বার্তা বহন করছে।
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল থেকেই হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে এসব তেলবাহী জাহাজ যাত্রা শুরু করবে। তিনি বলেন, ইরানের নতুন পদক্ষেপ সাম্প্রতিক সংঘাতের পর দুই দেশের সম্পর্ক নতুন এক মোড় নিতে পারে।
ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনার বিষয়ে ট্রাম্প আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, দুই দেশের মধ্যে দ্রুত একটি বড় ধরনের সমঝোতা হতে পারে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি ও পরোক্ষ উভয়ভাবেই তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগ থাকার কথা জানান এবং উল্লেখ করেন, আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
গত সপ্তাহে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ১৫ দফা শান্তি পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করলেও ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, নতুন পরিস্থিতিতে ইরান এই প্রস্তাবের বেশিরভাগ শর্ত মেনে নিয়েছে। তেলের ট্যাঙ্কার পাঠানোর ঘোষণা এমনকি এই দাবি আরও দৃঢ় করেছে যে, ইরান আলোচনায় আন্তরিক।
ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানে এখন নতুন নেতৃত্ব গড়ে উঠেছে, যাদের সঙ্গে আগে কখনো যুক্তরাষ্ট্রের যোগাযোগ হয়নি। তিনি নতুন নেতৃত্বকে ‘যুক্তিবাদী’ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
ইরানে স্থলবাহিনী পাঠানোর বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প সরাসরি কিছু না বললেও ইঙ্গিত দেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে নানা বিকল্প রয়েছে। তিনি জানান, একটি চূড়ান্ত চুক্তির সম্ভাবনা এখন অনেক বেশি।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, ট্রাম্পের এই দাবি সত্য হলে এটি মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে তেল পরিবহন স্বাভাবিক হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এখনো ইরানের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
পরিস্থিতি পর্যবেক্ষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির দিকে বিশ্ববাসীর নজর এখন সবচেয়ে বেশি। আন্তর্জাতিক বাজার এবং দ্বিপক্ষীয় কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর এই ঘটনার সম্ভাব্য প্রভাব বিশ্লেষণের জন্য বিভিন্ন দেশ মনোযোগী।