রাজনীতি ডেস্ক
জাতীয় সংসদ ইনসাফ ও নিরপেক্ষতার ভিত্তিতে পরিচালিত হলে দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সহজতর হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। রোববার (২৯ মার্চ) জাতীয় সংসদের অধিবেশনের শুরুতে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সূচনা বক্তব্যের পর তাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অধিবেশনের প্রারম্ভিক পর্যায়ে দেওয়া বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান সংসদকে দেশের সর্বোচ্চ গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও নীতিনির্ধারণী কার্যক্রম এই সংসদকেই কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়। সে কারণে সংসদের কার্যক্রমে ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা এবং নিরপেক্ষতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান নেতৃত্বের অধীনে সংসদ দেশের সব কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।
ডেপুটি স্পিকারের উদ্দেশে বক্তব্যে তিনি বলেন, সংসদের এই আসনটি কেবল একটি সাংবিধানিক পদ নয়, বরং এটি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বহন করে। তিনি উল্লেখ করেন, ডেপুটি স্পিকার তার বক্তব্যে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের যে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন, তা সংসদের কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এ ধরনের প্রতিশ্রুতি সংসদে আস্থার পরিবেশ গড়ে তুলতে সহায়ক হবে বলেও তিনি মত দেন।
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, সংসদ সদস্যদের সম্মিলিত সহযোগিতা ছাড়া কার্যকর ও ফলপ্রসূ সংসদ পরিচালনা সম্ভব নয়। তিনি তার দলের পক্ষ থেকে ডেপুটি স্পিকারের প্রতি সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে বলেন, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সকল ক্ষেত্রে তারা গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে আগ্রহী। সংসদের কার্যক্রম যাতে সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয়, সে জন্য ইতিবাচক ও দায়িত্বশীল আচরণ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বক্তব্যে তিনি মানবিক দিকটিও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনের সময় যে কোনো ব্যক্তি ভুল করতে পারেন এবং সংসদ পরিচালনার ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম নয়। এমন পরিস্থিতিতে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে ভুল সংশোধনের সুযোগ থাকা উচিত। তিনি উল্লেখ করেন, সংসদের সদস্যরা যাতে গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে ভুলত্রুটি সংশোধনে সহায়তা করতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বিশ্লেষকদের মতে, সংসদের কার্যক্রমে নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হলে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে এর কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়। একই সঙ্গে জনগণের আস্থা অর্জনেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সংসদ সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহনশীলতা বজায় থাকলে আইন প্রণয়ন ও নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী হয় বলে তারা মনে করেন।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে সংসদের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করার বিষয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলমান রয়েছে। এ অবস্থায় সংসদের ভেতরে গঠনমূলক সংলাপ, মতবিনিময় এবং দায়িত্বশীল আচরণ বজায় রাখা জরুরি বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যে সংসদের কার্যক্রমে এসব বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান প্রতিফলিত হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সংসদের নেতৃত্ব এবং সদস্যদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ন্যায়ভিত্তিক ও অংশগ্রহণমূলক কার্যক্রম নিশ্চিত করা গেলে তা দেশের সামগ্রিক শাসনব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।