1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ১১:০১ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে লিভারপুলকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ নিশ্চিত করল অ্যাস্টন ভিলা সাবেক প্রতিমন্ত্রী মিজানুর রহমান সিনহার ইন্তেকাল দেশের বাজারে সোনার দাম ভরিতে কমলো ২,২১৬ টাকা গাজায় ইসরায়েলের বিমান হামলায় শিশু ও নারীসহ নিহত ৭, আহত অর্ধশতাধিক ডেভিড বেকহামের নতুন রেকর্ড: যুক্তরাজ্যের প্রথম বিলিয়নিয়ার ক্রীড়াবিদ ২৬ মে’র ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু আজ চাঁদপুরের পথে প্রধানমন্ত্রী চেন্নাইয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সারের মৃত্যু হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে অপপ্রচারের প্রতিবাদ ডা. তাসনিম জারার, সংসদীয় তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি চিফ হুইপের

গাজায় ইসরায়েলের বিমান হামলায় শিশু ও নারীসহ নিহত ৭, আহত অর্ধশতাধিক

রিপোর্টার
  • আপডেট : শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬
  • ১৮ বার দেখা হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর দুটি পৃথক হামলায় অন্তত সাতজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে এক শিশু এবং তিন নারী রয়েছেন। আকস্মিক এই হামলায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৫০ জন ফিলিস্তিনি। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হামাসের বর্তমান সামরিক প্রধান ইজ্জ আল-দিন আল-হাদ্দাদকে লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হয়েছিল। তবে হামলায় তার ক্ষয়ক্ষতি বা বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

গাজার চিকিৎসাকর্মী ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, শুক্রবার গাজা শহরের রিমাল এলাকায় কোনো পূর্ব সতর্কবার্তা ছাড়াই একটি বহুতল আবাসিক অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে প্রথম ক্ষেপণাস্ত্র হামলাটি চালানো হয়। এর কিছুক্ষণ পর নিকটবর্তী একটি সড়কে অবস্থানরত একটি গাড়িকে লক্ষ্য করে দ্বিতীয় বিমান হামলাটি সম্পন্ন করে ইসরায়েলি বাহিনী। অত্যন্ত জনবহুল এলাকায় এই হামলা চালানোয় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা দপ্তরের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, হামলার শিকার বহুতল ভবনটিতে শত শত বেসামরিক মানুষ বসবাস করছিলেন। কোনো প্রকার নোটিশ বা সতর্কতা ছাড়া আকস্মিক এই হামলায় ভবনটির একটি বড় অংশ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায় এবং মুহূর্তের মধ্যে সেখানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ছড়িয়ে পড়ে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে চাপা পড়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্থানীয় উদ্ধারকারী দল ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে হতাহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

এদিকে এই অভিযানের বিষয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেছেন। বিবৃতিতে তারা উল্লেখ করেন, এই সুনির্দিষ্ট হামলার মূল লক্ষ্য ছিল হামাসের শীর্ষ কমান্ডার ইজ্জ আল-দিন আল-হাদ্দাদ। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের মে মাসে হামাসের সাবেক সামরিক কমান্ডার মোহাম্মদ সিনওয়ার নিহত হওয়ার পর ইজ্জ আল-দিন আল-হাদ্দাদ সংগঠনটির সামরিক শাখার প্রধান হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। তেল আবিবের দাবি, ২০২৩ সালের ৭ই অক্টোবর ইসরায়েলের অভ্যন্তরে পরিচালিত হামলার অন্যতম প্রধান পরিকল্পনাকারী ছিলেন এই হাদ্দাদ। তার বিরুদ্ধে বহু ইসরায়েলি নাগরিক ও সেনাকে হত্যা এবং অপহরণের অভিযোগ রয়েছে। তবে ইসরায়েলি দাবির প্রেক্ষিতে হামাসের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া বা মন্তব্য জানানো হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা আরও তীব্র রূপ নিতে পারে। গত অক্টোবর মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় একটি সাময়িক চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর গাজা উপত্যকায় বড় ধরনের সামরিক সংঘাত সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল। তবে দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়াটি এখনও অনিশ্চিত। গাজা থেকে সম্পূর্ণভাবে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকার পুনর্নির্মাণ সংক্রান্ত মৌলিক বিষয়গুলো নিয়ে বর্তমানে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যকার পরোক্ষ আলোচনা সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়েছে।

বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন কর্তৃক প্রস্তাবিত ‘গাজা-পরবর্তী’ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিকল্পনা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে যখন নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে, ঠিক তখনই এই উচ্চপর্যায়ের বিমান হামলাটি পরিচালিত হলো। কূটনৈতিক সূত্রগুলো মনে করছে, এই ধরনের আগ্রাসন চলমান শান্তি আলোচনা ও সমঝোতার প্রচেষ্টাকে আরও জটিল করে তুলবে।

গত অক্টোবরের সাময়িক চুক্তির পর থেকে গাজায় অব্যাহত বিচ্ছিন্ন ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত প্রায় ৮৫০ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। বর্তমানে গাজা উপত্যকার অর্ধেকেরও বেশি এলাকা ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সরাসরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ ও অবরোধের কারণে সেখানকার ২০ লক্ষাধিক বাসিন্দা চরম মানবিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছেন। খাদ্য, পানীয় জল ও চিকিৎসা সামগ্রীর তীব্র ঘাটতির মধ্যে অবরুদ্ধ এই জনসংখ্যার একটি বিশাল অংশ বর্তমানে অস্থায়ী তাঁবু এবং আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়িতে অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026