আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ফুটবল মাঠে দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের পর এবার বাণিজ্যিক জগতেও এক অনন্য ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক ও বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম তারকা ডেভিড বেকহাম। যুক্তরাজ্যের প্রথম ক্রীড়াবিদ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে বিলিয়নিয়ার বা শতকোটিপতি হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন তিনি। বৈশ্বিক ফুটবল অঙ্গন থেকে অবসর নেওয়ার দীর্ঘ সময় পরও বাণিজ্যিক দূরদর্শিতা এবং কৌশলগত বিনিয়োগের মাধ্যমে তিনি এই বিশাল আর্থিক সাফল্য লাভ করেন।
যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী গণমাধ্যম ‘সানডে টাইমস’-এর ২০২৬ সালের সর্বশেষ ধনী ব্যক্তিদের তালিকা (রিচ লিস্ট) অনুযায়ী, ডেভিড বেকহাম এবং তার স্ত্রী ভিক্টোরিয়া বেকহামের সম্মিলিত মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ১৮৫ বিলিয়ন পাউন্ডে। গত এক বছরের ব্যবধানে এই দম্পতির সম্পদের পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা যুক্তরাজ্যের ব্যবসায়িক ও ক্রীড়া ইতিহাসে একটি অভূতপূর্ব ঘটনা হিসেবে দেখছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বেকহাম দম্পতির এই বিশাল আর্থিক উত্থানের পেছনে সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল লিগে বেকহামের দূরদর্শী বিনিয়োগ। যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) ক্লাব ইন্টার মায়ামির সহ-মালিক ডেভিড বেকহাম ক্লাবটিকে বিশ্বমঞ্চে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। বিশেষ করে, ২০২৩ সালে বিশ্বজয়ী আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসিকে ইন্টার মায়ামিতে দলে ভেড়ানোর সিদ্ধান্তটি ক্লাবের পাশাপাশি বেকহামের ব্যক্তিগত আর্থিক ভাগ্যে আমূল পরিবর্তন এনে দেয়।
মেসির যোগদানের পর থেকে ইন্টার মায়ামির ব্র্যান্ড ভ্যালু ও বাণিজ্যিক রাজস্ব নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে ক্লাবটির বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। এর ফলে মেজর লিগ সকারের ইতিহাসে এটিই এখন সবচেয়ে মূল্যবান ফুটবল ক্লাব হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। ক্লাবের এই আকাশচুম্বী মূল্যায়নের সরাসরি সুফল পেয়েছেন এর অন্যতম প্রধান অংশীদার ডেভিড বেকহাম।
কেবল ক্লাবের মূল পারফরম্যান্স বা টিকিট বিক্রি নয়, ইন্টার মায়ামির স্টেডিয়ামকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা বিশাল রিয়েল এস্টেট প্রকল্প থেকেও বিপুল পরিমাণ মুনাফা ঘরে তুলছেন বেকহাম। আবাসন খাতের এই বড় বিনিয়োগ তার স্থায়ী সম্পদের পরিমাণ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সামগ্রী প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাস এবং বিশ্বখ্যাত ফ্যাশন ব্র্যান্ড হুগো বসের মতো বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর সঙ্গে বেকহামের দীর্ঘমেয়াদি ও বহুমূল্যের স্পনসরশিপ চুক্তি রয়েছে। এই সব চুক্তি থেকে প্রতি বছর বিশাল অঙ্কের রয়্যালটি ও লভ্যাংশ তার তহবিলে জমা হচ্ছে।
অর্থনৈতিক ও ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, ডেভিড বেকহামের এই বিলিয়নিয়ার হওয়া বিশ্ব ক্রীড়া জগতের জন্য একটি বড় বার্তা। এটি প্রমাণ করে যে, মাঠের ক্যারিয়ার শেষ হওয়ার পরও সঠিক বাণিজ্যিক পরিকল্পনা, ব্র্যান্ডিং এবং দূরদর্শী বিনিয়োগের মাধ্যমে একজন ক্রীড়াবিদ কীভাবে বিশ্ব অর্থনীতির মূল ধারায় নিজের আধিপত্য বজায় রাখতে পারেন। বেকহামের এই মডেলটি আগামী প্রজন্মের ক্রীড়াবিদদের জন্য পেশাদার ক্যারিয়ারের পাশাপাশি ব্যবসায়িক উদ্যোগ গ্রহণের ক্ষেত্রে একটি বড় অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।