খেলাধূলা ডেস্ক
সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে শনিবার মধ্যরাতে অস্ট্রেলিয়ার সিডনি থেকে দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। তাঁর দেশে ফেরা ক্রিকেট সমাজে দীর্ঘ সময় ধরে চলা জল্পনা ও অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়েছে।
বিসিবির একাধিক পরিচালক নিশ্চিত করেছেন, ২৮ মার্চ শনিবার মধ্যরাতে তিনি রাজধানী ঢাকায় পৌঁছান। দীর্ঘ সময় বিদেশে থাকার পর রোজার আগে দেশে ফেরার বিষয়ে নানা গুঞ্জন ও অনিশ্চয়তা থাকলেও, শেষ পর্যন্ত তিনি দেশে ফিরে আসেন।
গত অক্টোবর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে ঢাকার ক্লাবগুলো এবং জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার একাংশ নির্বাচনকে অবৈধ, অস্বচ্ছ এবং সরকারি হস্তক্ষেপপ্রবণ বলে অভিহিত করে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে অভিযোগ জানিয়েছিলেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে, যা একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে কাজ করছে। কমিটির প্রতিবেদন ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে দাখিল করার কথা থাকলেও, এপ্রিলের প্রথম ভাগে প্রতিবেদন জমা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে, নির্বাচন সংক্রান্ত সমালোচনা ও প্রশ্নের মধ্যে ছিলেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল নিজেও। নির্বাচনের আগে তিনি জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার কাছে কাউন্সিলরশিপ চেয়ে চিঠি পাঠিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েন। তদন্ত কমিটি তাঁর ভূমিকা যাচাই করার জন্য সরাসরি তার বক্তব্য নেবে। জানা গেছে, কমিটির সঙ্গে তার অনলাইনে এবং মুঠোফোনে যোগাযোগ হয়েছে, তবে ঢাকায় ফেরার পর তাকে সরাসরি সাক্ষাৎ দিতে হবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিসিবির নেতৃত্বে থাকা অবস্থায় এই তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন বোর্ডের কর্মকাণ্ড ও সভাপতি বুলবুলের ভূমিকা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদঘাটন করতে পারে। এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর বোর্ডের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন আলোচনার সূচনা হবে।
ক্রিকেট অনুরাগীরা দীর্ঘ সময় ধরে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের দেশে ফেরা নিয়ে আগ্রহী ছিলেন। তাঁর ফেরার মাধ্যমে বোর্ডের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে পুনরায় স্থিতিশীলতা আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আগামী দিনের কর্মকাণ্ড, বিশেষ করে তদন্ত কমিটির কার্যক্রমের ফলাফল বোর্ডের ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বর্তমানে তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন এবং বিসিবির কাজ পরিচালনার পাশাপাশি তদন্ত কমিটির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নির্বাচন সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয় সম্পর্কে তথ্য প্রদান করবেন। এটি বোর্ডের স্বচ্ছতা ও নির্বাচনের প্রক্রিয়ার উপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।