আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ক্রমবর্ধমান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রেক্ষাপটে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা শক্তিশালী করতে একমত হয়েছেন ইউক্রেন, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। শনিবার (২৮ মার্চ) আবুধাবি ও দোহায় অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন।
প্রথমে আবুধাবিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদের সঙ্গে বৈঠক করেন জেলেনস্কি। বৈঠক শেষে তিনি জানান, প্রতিরক্ষা চুক্তির বিস্তারিত বিষয়গুলো শিগগিরই বিশেষজ্ঞরা চূড়ান্ত করবেন। তিনি বলেন, বর্তমান হুমকির প্রেক্ষাপটে স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং জীবন সুরক্ষায় ইউক্রেনের বিশেষ অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।
জেলেনস্কি উল্লেখ করেছেন, রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘর্ষে ইরানি শাহেদ ড্রোন ভূপাতিত করার অভিজ্ঞতা ব্যবহার করে উপসাগরীয় দেশগুলোর আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদারে ইউক্রেন অবদান রাখবে। ইতোমধ্যে কিছু ইউক্রেনীয় বিশেষজ্ঞ সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থান করছেন।
এরপর দোহায় কাতারের সঙ্গে বৈঠকে নতুন প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি করেছে ইউক্রেন। কাতার জানিয়েছে, চুক্তির আওতায় প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, যৌথ প্রকল্প, বিনিয়োগ এবং ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় অভিজ্ঞতা বিনিময় অন্তর্ভুক্ত থাকবে। জেলেনস্কি বলেন, দুই দেশ অন্তত ১০ বছরের অংশীদারিত্বে একমত হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতার এই সম্প্রসারণ ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হুমকির মোকাবিলায় উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হবে। বিশেষ করে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ইউক্রেনের অভিজ্ঞতা উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা প্রদান করবে।
মধ্যপ্রাচ্যে এই ধরনের যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে অঞ্চলটির স্থিতিশীলতা এবং নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা খাতে আন্তর্জাতিক মানের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি হবে। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করছেন, দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্বের ফলে কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা খাতে আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ কাঠামো উন্নত হবে।
এছাড়া, প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় যৌথ প্রকল্প এবং বিনিয়োগ উদ্যোগগুলি শুধু সামরিক খাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং অঞ্চলটিতে প্রতিরক্ষা শিল্প ও প্রযুক্তিগত গবেষণার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত করবে। এই সহযোগিতা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি মোকাবিলায় একটি কার্যকর কৌশল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, ইউক্রেন, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বের চূড়ান্ত পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়নের সময়সীমা আগামী কয়েক মাসের মধ্যে নির্ধারিত হবে।