আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন বৈশ্বিক উদ্বেগ তৈরি করেছে উত্তর কোরিয়া। রোববার (২৯ মার্চ) দেশটির নেতা কিম জং উন একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা তদারকি করেছেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানতে সক্ষম বলে দেশটি দাবি করেছে। এই পরীক্ষা উত্তর কোরিয়ার সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির কৌশলগত অগ্রগতির অংশ হিসেবে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে বিবেচিত হয়েছে।
কেসিএনএ-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, নতুন ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করবে। কিম জং উন দেশটিকে একটি শক্তিশালী পারমাণবিক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রসঙ্গ টেনে যুক্তরাষ্ট্রকে বৈশ্বিক “রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ ও আগ্রাসনের” জন্য দায়ী করেছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিম একটি উন্নত সলিড-ফুয়েল ইঞ্জিনের গ্রাউন্ড জেট পরীক্ষা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেছেন। এই ইঞ্জিনে কম্পোজিট কার্বন ফাইবার উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে এবং এর সর্বোচ্চ ক্ষমতা প্রায় ২ হাজার ৫০০ কিলোটন, যা আগের পরীক্ষায় ব্যবহৃত ১ হাজার ৯৭১ কিলোটনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ক্ষমতা বৃদ্ধির প্রচেষ্টা ভবিষ্যতে একাধিক ওয়ারহেড বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের পরিকল্পনার অংশ হতে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দেওয়ার সক্ষমতা বাড়াবে। পরীক্ষার সঠিক স্থান বা অবস্থান প্রকাশ করা হয়নি।
উত্তর কোরিয়া জানিয়েছে, পরীক্ষা তাদের পাঁচ বছরের সামরিক শক্তি বৃদ্ধির কর্মসূচির অংশ। এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো এমন কৌশলগত হামলা সক্ষমতা তৈরি করা, যার মাধ্যমে পারমাণবিক অস্ত্র বহনযোগ্য আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) তৈরি করে দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করা সম্ভব হবে। কেসিএনএ এই পরীক্ষাকে দেশের সামরিক শক্তিকে “সর্বোচ্চ পর্যায়ে” উন্নীত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উত্তর কোরিয়া একাধিক আইসিবিএম পরীক্ষা চালিয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে পৌঁছানোর সক্ষমতা প্রদর্শন করে। বিশেষ করে সলিড-ফুয়েল প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে ক্ষেপণাস্ত্র দ্রুত উৎক্ষেপণযোগ্য এবং আগাম শনাক্ত করা কঠিন হয়। তবে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, কার্যকর আইসিবিএম তৈরি করতে এখনও কিছু প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করতে হবে, যার মধ্যে রয়েছে ওয়ারহেডকে বায়ুমণ্ডলে পুনঃপ্রবেশের সময় তাপ ও চাপ সহ্য করার ক্ষমতা নিশ্চিত করা।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, দীর্ঘদিন ধরে পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে বিনিয়োগের কারণে উত্তর কোরিয়া এই সক্ষমতার নিকটে পৌঁছেছে। ২০১৯ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর থেকে দেশটি তার পারমাণবিক কর্মসূচি জোরদার করেছে। সাম্প্রতিক এক পার্টি কংগ্রেসে কিম আলোচনার সম্ভাবনা খোলা রেখেছেন, তবে যুক্তরাষ্ট্রকে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের দাবি প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন।
এই পরীক্ষার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ে নতুন করে নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক চাপের পরিবেশ তৈরি হচ্ছে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও নিকটবর্তী প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য। এর ফলে উত্তর কোরিয়ার সামরিক ও কূটনৈতিক কৌশল পুনঃমূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে।