খেলাধূলা ডেস্ক
মেক্সিকো সিটির অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে পর্তুগাল ও মেক্সিকো গোলশূন্য ড্র করেছে। ম্যাচে কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি। তবে খেলাটির ফলাফলের চেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল পর্তুগালের অধিনায়ক ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর অনুপস্থিতি, যিনি চোটের কারণে দলে ছিলেন না।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণাত্মক ফুটবল প্রদর্শনের চেষ্টা করে। মেক্সিকো নিজেদের মাঠের সমর্থন কাজে লাগিয়ে আক্রমণে এগিয়ে থাকলেও পর্তুগালের রক্ষণভাগ সংগঠিত ছিল। পাল্টা আক্রমণে পর্তুগাল কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও সেগুলো কাজে লাগাতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো দলই গোল করতে না পারায় ম্যাচটি ০-০ সমতায় শেষ হয়।
এই ম্যাচে পর্তুগালের মূল আলোচনার বিষয় ছিল অধিনায়ক ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর অনুপস্থিতি। দলের নিয়মিত এই ফরোয়ার্ড হ্যামস্ট্রিং চোটে ভুগছেন বলে জানা গেছে। চিকিৎসক ও কোচিং স্টাফের পরামর্শে তাকে বিশ্রামে রাখা হয়, যাতে করে ভবিষ্যতের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে ঝুঁকি এড়ানো যায়।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, রোনালদোর চোট গুরুতর নয়। তবে সামনের বড় টুর্নামেন্টগুলো বিবেচনায় নিয়ে তাকে সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা করছে পর্তুগাল দল। বিশেষ করে ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিতব্য ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে খেলোয়াড়দের ফিটনেস নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে দলীয় ব্যবস্থাপনা।
উল্লেখ্য, ৪১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে তার ক্লাব আল নাসরের হয়েও মাঠে নামেননি। এতে তার ম্যাচ ফিটনেস নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তিনি দ্রুতই স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবেন।
পর্তুগালের প্রধান কোচ রবার্তো মার্টিনেজ জানিয়েছেন, রোনালদোর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং তাকে শতভাগ সুস্থ করে তোলাই দলের লক্ষ্য। তিনি বলেন, খেলোয়াড়দের দীর্ঘমেয়াদি ফিটনেস নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সময় নেওয়া হচ্ছে।
বিশ্ব ফুটবলে অন্যতম অভিজ্ঞ খেলোয়াড় হিসেবে রোনালদোর উপস্থিতি পর্তুগাল দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই তার অনুপস্থিতিতে দলটি কৌশলগতভাবে কিছুটা পরিবর্তন আনলেও, সামগ্রিক পারফরম্যান্সে বড় ধরনের প্রভাব পড়েনি বলে মনে করা হচ্ছে।
সবকিছু বিবেচনায়, মেক্সিকোর বিপক্ষে এই প্রীতি ম্যাচে গোলশূন্য ড্র হলেও পর্তুগাল দল তাদের প্রস্তুতি প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে। সামনে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাগুলোকে লক্ষ্য করে দলটি খেলোয়াড়দের শারীরিক সক্ষমতা ও কৌশলগত সমন্বয় আরও উন্নত করার ওপর জোর দিচ্ছে।