আন্তর্জাতিক ডেস্ক
লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটির অভ্যন্তরে এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় ইসরাইলি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ৮২টি অভিযান পরিচালনার দাবি করেছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, এসব অভিযানের মধ্যে সীমান্ত পেরিয়ে ইসরাইলি অবস্থান লক্ষ্য করে হামলাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে এসব দাবির বিষয়ে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
হিজবুল্লাহর এক বিবৃতিতে বলা হয়, রাজধানী বৈরুতের আকাশে নিচু দিয়ে উড়ে যাওয়া একটি ইসরাইলি যুদ্ধবিমানকে লক্ষ্য করে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। এই ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের ঘটনাকে চলমান সংঘাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পরিবর্তন হিসেবে বিবেচনা করছেন সামরিক বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ সংঘাতের পরিধি ও তীব্রতা বাড়াতে পারে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
এ ছাড়া হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, দক্ষিণ লেবাননের টায়ার শহরের কাছে তারা দুটি ইসরাইলি ট্যাংক ধ্বংস করেছে। একই সঙ্গে খিয়াম শহরের নিয়ন্ত্রণ নিতে অগ্রসর হওয়া ইসরাইলি বাহিনীর সঙ্গে তাদের যোদ্ধাদের তীব্র লড়াই চলছে বলেও জানানো হয়। সংঘর্ষের এসব ঘটনায় হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
লেবানন-ইসরাইল সীমান্তে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে উত্তেজনা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। গাজা উপত্যকাকে কেন্দ্র করে ইসরাইল ও ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই এই সীমান্তে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা বেড়েছে। হিজবুল্লাহ, যা ইরানসমর্থিত একটি শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিসেবে পরিচিত, দীর্ঘদিন ধরে ইসরাইলের সঙ্গে শত্রুতাপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে এবং সীমান্ত এলাকায় তাদের সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বৈরুতের আকাশে যুদ্ধবিমান লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের দাবি সত্য হলে তা সংঘাতের প্রকৃতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিতে পারে। এতদিন পর্যন্ত অধিকাংশ সংঘর্ষ সীমান্তবর্তী এলাকাতেই সীমাবদ্ধ থাকলেও, রাজধানীর আকাশসীমায় এমন ঘটনা সংঘটিত হলে তা লেবাননের অভ্যন্তরে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
অন্যদিকে, ইসরাইলি বাহিনীও সীমান্ত এলাকায় হিজবুল্লাহর অবস্থান লক্ষ্য করে নিয়মিত বিমান ও স্থল হামলা চালিয়ে আসছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। উভয় পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে সীমান্তবর্তী এলাকার সাধারণ জনগণ চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। অনেক বাসিন্দা ইতোমধ্যে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের আশঙ্কা, এই সংঘাত যদি আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করে, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সম্পৃক্ততা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষের দাবি ও পাল্টা দাবির সত্যতা যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে সংঘাতের প্রকৃত চিত্র নিরূপণে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও স্বাধীন সূত্রের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এ অবস্থায় উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশ্লেষকেরা।