অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
রাশিয়ার সরকার আগামী ১ এপ্রিল থেকে পেট্রোল রপ্তানি সাময়িকভাবে বন্ধ করার সম্ভাব্য পরিকল্পনা তৈরি করছে। দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী আলেক্সান্দার নোভাক শুক্রবার (২৭ মার্চ) জ্বালানি মন্ত্রণালয়কে এই নির্দেশ দিয়েছেন। সরকারি সংবাদ সংস্থা তাস জানিয়েছে, এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজনে ৩১ জুলাই পর্যন্ত চালু থাকতে পারে।
উপপ্রধানমন্ত্রী নোভাক জানান, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বেড়েছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে ওঠানামা করছে। তিনি বলেন, “বিদেশে রাশিয়ার জ্বালানির চাহিদা এখনও উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। তবে দেশের অভ্যন্তরীণ সরবরাহকে স্থিতিশীল রাখা এখন আমাদের মূল লক্ষ্য।”
রাশিয়া সরকার জানিয়েছে, দেশটির তেল পরিশোধনাগারগুলোর উৎপাদন গত বছরের মতোই চলছে। ফলে অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে। সরকার আশা করছে, রপ্তানি সীমিত করার মাধ্যমে দেশটির ভেতরের বাজারে তেলের মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে।
গত বছরের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, রাশিয়ার কয়েকটি অঞ্চলে পেট্রোলের ঘাটতি দেখা দিয়েছিল। ইউক্রেনের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চলাকালে দেশটির কিছু তেল পরিশোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এক্ষেত্রে স্থানীয় চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছিল।
এই পরিস্থিতির কারণে রাশিয়া আগেও কয়েক দফা পেট্রোল ও ডিজেল রপ্তানি সাময়িকভাবে বন্ধ করেছিল। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এ ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক বাজারে রাশিয়ার প্রতিযোগিতামূলক অবস্থাকে প্রভাবিত করতে পারে। তেলের রপ্তানি বন্ধ হলে এশিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের জ্বালানি সরবরাহের উপর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে এবং বিশ্ব বাজারে মূল্য স্থিতিশীলতা অস্থির হতে পারে।
রাশিয়ার এই সম্ভাব্য পদক্ষেপের ফলে আন্তর্জাতিক তেল বাজারে নতুনভাবে অস্থিরতার সৃষ্টি হতে পারে। বিশ্লেষকরা বলছেন, রপ্তানি সীমিত করা হলে গ্লোবাল ক্রুড অয়েল প্রাইসের ওপর চাপ পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে, এ অঞ্চলের দেশগুলোর জ্বালানি নিরাপত্তা এবং উৎপাদন খরচের উপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়তে পারে।
সরকারি সূত্র জানায়, রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ জ্বালানি নীতি এবং রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের অবস্থানকে দৃঢ় করার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ মূল্য স্থিতিশীলতার একটি কৌশল হিসেবে কাজ করবে। এই নির্দেশনা কার্যকর হলে রাশিয়া নিজ দেশের ভেতরের বাজারে তেলের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে পারবে এবং বিশ্ববাজারে অস্থিরতার প্রভাব মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে।
বিশেষজ্ঞরা আরও সতর্ক করছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এবং রাশিয়ার রপ্তানি নীতি মিলিতভাবে আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহ চেইনকে আরও অস্থির করতে পারে। ফলে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের বাজার মনিটরিং এবং দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি নিরাপত্তা পরিকল্পনায় পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন হতে পারে।
রাশিয়ার এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলার সম্ভাবনা রাখায় বিশ্ব অর্থনৈতিক পর্যবেক্ষকরা দেশটির নীতি ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া বিশেষভাবে নজরদারি করবেন।