আন্তর্জাতিক ডেস্ক
সংযুক্ত আরব আমিরাতের অর্থনৈতিক কেন্দ্র দুবাইয়ে অবস্থিত বিশ্বের সর্বোচ্চ বহুতল ভবন বুর্জ খলিফা-এর ওপর বজ্রপাতের ঘটনা ঘটেছে। গত শুক্রবার রাতে দুবাইসহ দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে প্রবল ঝড়বৃষ্টির সময় এই বজ্রপাত আঘাত হানে। তবে এতে ভবনটির কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার রাতে দুবাইয়ে আকস্মিকভাবে ঝড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হয়। একই সময় আকাশে ঘন মেঘের সঙ্গে তীব্র বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। এ সময় বুর্জ খলিফার ওপর একটি শক্তিশালী বজ্রপাত আঘাত হানার দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেন আশপাশের বাসিন্দা ও পথচারীরা। ঘটনাটি অনেকে ক্যামেরাবন্দি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের জাতীয় আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, ওইদিন শুধু দুবাই নয়, রাজধানী আবুধাবি, শারজাহসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও ঝড়বৃষ্টি হয়েছে। মৌসুমি আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে এমন আকস্মিক ঝড়-বৃষ্টির প্রবণতা দেখা দিতে পারে বলে সংস্থাটি উল্লেখ করেছে।
২০১০ সালে উদ্বোধন হওয়া বুর্জ খলিফা ১৬৩ তলাবিশিষ্ট একটি স্থাপনা, যার উচ্চতা প্রায় ২ হাজার ৭৭২ ফুট। এটি বর্তমানে বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবন হিসেবে স্বীকৃত। আশেপাশে সমমান বা এর চেয়ে উঁচু কোনো ভবন না থাকায় প্রাকৃতিকভাবে বজ্রপাতের সময় এ ধরনের উচ্চ স্থাপনায় বিদ্যুৎ নির্গমনের প্রবণতা বেশি থাকে।
তবে এই বজ্রপাত সত্ত্বেও ভবনটির অক্ষত থাকার পেছনে রয়েছে এর আধুনিক প্রকৌশল কাঠামো। বিশেষজ্ঞদের মতে, বুর্জ খলিফার নির্মাণে উন্নতমানের ইস্পাত ও কংক্রিট ব্যবহার করা হয়েছে, যা ভবনটিকে শক্তিশালী ও স্থিতিশীল করেছে। এছাড়া ভবনের শীর্ষে স্থাপন করা হয়েছে বিশেষ ধরনের লাইটেনিং রড বা বজ্রনিরোধক ব্যবস্থা, যা বজ্রপাতকে সরাসরি ভবনের মূল কাঠামোতে আঘাত করতে দেয় না।
এই লাইটেনিং রডের মাধ্যমে বজ্রপাতের বিদ্যুৎ নিরাপদভাবে মাটিতে নেমে যায়। ফলে ভবনের ভেতরের কাঠামো, বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা এবং বাসিন্দারা সুরক্ষিত থাকে। আধুনিক উচ্চ ভবন নির্মাণে এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার এখন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত।
বুর্জ খলিফা দুবাইভিত্তিক রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান এমার প্রোপার্টিজের মালিকানাধীন। ভবনটির জন্য প্রায় ১৫০ কোটি মার্কিন ডলারের বিমা করা রয়েছে বলে জানা যায়। এটি শুধু একটি আবাসিক বা বাণিজ্যিক স্থাপনা নয়, বরং আন্তর্জাতিক পর্যটনের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবেও পরিচিত।
ভবনটির ১২৪, ১২৫ এবং ১৪৮ তলায় পর্যটকদের জন্য অবজারভেশন ডেক স্থাপন করা হয়েছে, যেখান থেকে দুবাই শহরের বিস্তৃত দৃশ্য উপভোগ করা যায়। প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত পর্যটকদের একটি বড় অংশ এই ভবনটি পরিদর্শন করে থাকেন।
সাম্প্রতিক এই বজ্রপাতের ঘটনায় ভবনটির কাঠামোগত নিরাপত্তা ব্যবস্থা আবারও কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। একই সঙ্গে উচ্চ ভবনে বজ্রনিরোধক প্রযুক্তির গুরুত্বও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।