আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। গোষ্ঠীটির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহইয়া সারি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, আঞ্চলিক পরিস্থিতির অবনতি হলে তারা যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে পারে। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে ইরান, লেবাননসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর বিরুদ্ধে সামরিক কার্যক্রম বন্ধ করে কূটনৈতিক উদ্যোগে সাড়া দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে ইয়াহইয়া সারি বলেন, “আমাদের আঙুল সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের ট্রিগারে রয়েছে,” যা থেকে বোঝা যায়, পরিস্থিতি অনুকূল না থাকলে হুথিরা দ্রুত সামরিক পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। তিনি পাঁচটি মূল বিষয় উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং চলমান উত্তেজনা প্রশমনে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।
প্রথমত, তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে ইরান ও লেবাননসহ তথাকথিত “প্রতিরোধ অক্ষভুক্ত” দেশগুলোর বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ বন্ধে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার প্রতি ইতিবাচক সাড়া দেওয়ার আহ্বান জানান। তার মতে, বর্তমান সংঘাত আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে।
দ্বিতীয়ত, ফিলিস্তিন, লেবানন, ইরাক ও ইরানে চলমান সামরিক কার্যক্রম বন্ধ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন সারি। পাশাপাশি ইয়েমেনের ওপর আরোপিত অবরোধ তুলে নেওয়ার দাবি জানান, যা দীর্ঘদিন ধরে দেশটির মানবিক পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তৃতীয়ত, গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা এবং পর্যাপ্ত মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, চলমান সংঘাতের কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যা দ্রুত সমাধানের প্রয়োজন।
এছাড়া, হুথি মুখপাত্র স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতি তৈরি হলে তাদের সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের পক্ষে নতুন কোনো দেশ যুদ্ধে যুক্ত হওয়া, লোহিত সাগর ব্যবহার করে ইরান বা অন্য কোনো মুসলিম দেশের বিরুদ্ধে হামলা চালানো, এবং ইরান ও সংশ্লিষ্ট মিত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে যুদ্ধের পরিসর আরও বিস্তৃত হওয়া।
সারি আরও সতর্ক করেন যে, ইয়েমেনের জনগণের ওপর অবরোধ কঠোর করার উদ্দেশ্যে নতুন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে সেটিও উত্তেজনা বৃদ্ধি করতে পারে। তার মতে, এমন পদক্ষেপ আঞ্চলিক পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলবে।
বিশ্লেষকদের মতে, হুথিদের এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান, ইসরাইল, গাজা ও লেবাননকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বেড়েছে, যা বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। এই প্রেক্ষাপটে হুথিদের সম্ভাব্য সামরিক সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
উল্লেখ্য, ইয়েমেনে দীর্ঘদিন ধরে চলমান সংঘাত দেশটির মানবিক পরিস্থিতিকে গভীর সংকটে ফেলেছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা বারবার সেখানে অবরোধ শিথিল ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়ে আসছে। হুথিদের সাম্প্রতিক বক্তব্য সেই প্রেক্ষাপটে নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যা ভবিষ্যৎ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।