সারাদেশ ডেস্ক
খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলায় নীতি দত্ত চাকমা (৪৫) নামে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ-গণতান্ত্রিক)–এর এক নেতাকে গুলি করে হত্যা করেছে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার সুতাকর্মপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত নীতি দত্ত চাকমা সংগঠনটির পানছড়ি উপজেলা সংগঠক ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে নীতি দত্ত চাকমা সুতাকর্মপাড়ার একটি দোকানে অবস্থান করছিলেন। এ সময় কয়েকজন সশস্ত্র ব্যক্তি সেখানে এসে খুব কাছ থেকে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর ঘটনাস্থলেই তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. জয়া ত্রিপুরা জানান, হাসপাতালে আনার আগেই নীতি দত্ত চাকমার মৃত্যু হয়েছে। তার শরীরে গুলির আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে, বিশেষ করে পেটে গুলিবিদ্ধ হন তিনি। এছাড়া তার বাম হাত ভাঙা অবস্থায় ছিল। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পানছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, গুলির ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। স্থানীয়দের মাধ্যমে আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরে তার মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে তিনি জানান।
নিহত নীতি দত্ত চাকমা উপজেলার উত্তর শান্তিপুর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক)–এর সঙ্গে যুক্ত থেকে সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছিলেন বলে জানা গেছে। তার হত্যাকাণ্ডে স্থানীয়ভাবে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার পর সংগঠনটির পক্ষ থেকে একে লক্ষ্য করে পরিকল্পিত হামলা বলে দাবি করা হয়েছে। ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক)–এর কেন্দ্রীয় পর্যায়ের এক নেতা এই হত্যার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বী একটি সংগঠনকে দায়ী করেছেন। তবে অভিযুক্ত পক্ষ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং দাবি করেছে, স্থানীয় পর্যায়ে একটি মেলা ঘিরে সৃষ্ট অভ্যন্তরীণ বিরোধের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন আঞ্চলিক সংগঠনের মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘাতের ইতিহাস রয়েছে। মাঝে মধ্যেই এসব সংঘর্ষে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে, যা স্থানীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, সাম্প্রতিক এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
এ ঘটনায় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।