অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে দেশের জ্বালানি সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখতে প্রায় ১ লাখ ৯২ হাজার টন তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করেছে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলা। সংস্থাটির তথ্যমতে, অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে তিনটি পৃথক জাহাজে এসব এলএনজি দেশে আনা হচ্ছে, যা আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পর্যায়ক্রমে দেশে পৌঁছাবে।
এরই মধ্যে অস্ট্রেলিয়া থেকে প্রায় ৬২ হাজার টন এলএনজি নিয়ে লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী ‘এইচএল পাফফিন’ নামের একটি ট্যাংকার জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে বলে বন্দর কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। জাহাজটি থেকে বঙ্গোপসাগরের মহেশখালীতে অবস্থিত আরপিজিসিএলের ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিটে (এফএসআরইউ) এলএনজি খালাসের প্রস্তুতি চলছে। এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমদানিকৃত এলএনজি গ্যাসে রূপান্তর করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে।
চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২৭ মার্চ ‘নিউ ব্রেভ’ নামের আরেকটি এলএনজিবাহী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী এ জাহাজটি ইন্দোনেশিয়া থেকে প্রায় ৬১ হাজার ৫০০ টন এলএনজি নিয়ে আসছে। পাশাপাশি আগামী ৪ এপ্রিল ‘সেলসিয়াস গ্যালাপাগোস’ নামের আরও একটি জাহাজ বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। মার্শাল আইল্যান্ডের পতাকাবাহী এ জাহাজটি যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ৭০ হাজার টন এলএনজি বহন করছে।
বিশ্ববাজারে জ্বালানির সরবরাহ পরিস্থিতি অস্থির হয়ে ওঠায় বাংলাদেশসহ বিভিন্ন আমদানিনির্ভর দেশের ওপর এর প্রভাব পড়ছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওঠানামার কারণে জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ এবং সরবরাহ চেইন সচল রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানিয়েছেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহে যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় বন্দর কর্তৃপক্ষ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জ্বালানিবাহী জাহাজের বার্থিং ও খালাস কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে একটি জাহাজ বন্দরে পৌঁছেছে এবং নির্ধারিত সময় অনুযায়ী আরও দুটি জাহাজ আসার কথা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আমদানিকৃত এলএনজির এ চালানগুলো দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প খাতে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বর্তমানে দেশের গ্যাসের চাহিদা পূরণে আমদানিনির্ভরতা বেড়েছে, ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরবরাহ ব্যবস্থাপনা জোরদার করা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।
এদিকে জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখতে সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে বলে জানা গেছে। এলএনজি আমদানির এ ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে আসন্ন সময়েও গ্যাস সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল আশা প্রকাশ করেছে।