অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
সরকার খোলাবাজার বা স্পট মার্কেট থেকে দুই কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই প্রস্তাব বুধবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে অনুমোদিত হয়েছে। বৈঠকটি সভাপতিত্ব করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বৈঠকের পর অর্থ মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রস্তাবের ভিত্তিতে গণ খাতে ক্রয় বিধিমালা-২০০৮ অনুসরণ করে আন্তর্জাতিক দরপত্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি আমদানি করা হবে। যুক্তরাজ্যের কম্পানি টোটাল এনার্জিস গ্যাস অ্যান্ড পাওয়ার এই সরবরাহের দায়িত্ব পেয়েছে। প্রতিটি কার্গোতে ৩৩ লাখ ৬০ হাজার মিলিয়ন মেট্রিক ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট (এমএমবিটিইউ) এলএনজি রয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, টোটাল এনার্জিস গ্যাস অ্যান্ড পাওয়ার থেকে এক কার্গো এলএনজি আনার জন্য প্রতি এমএমবিটিইউর দাম পড়ছে ১৯.৭৭ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় দুই কার্গোর মোট খরচ দাঁড়াচ্ছে ১,৬৬৬ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। প্রথম কার্গো আসবে ২৪-২৫ এপ্রিল এবং দ্বিতীয় কার্গো ২৭-২৮ এপ্রিল।
টোটাল এনার্জিস থেকে এক কার্গো এলএনজি আনার প্রস্তাব ক্রয় কমিটিতে আগে ১১ মার্চ অনুমোদিত হয়েছিল। তখন প্রতি এমএমবিটিইউর দাম ছিল ২১.৫৮ মার্কিন ডলার। অর্থাৎ সাম্প্রতিক আমদানি আরও কিছুটা সস্তা হয়েছে। তুলনামূলকভাবে, গত বছরের ৯ ডিসেম্বর একই কোম্পানি থেকে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজি আনতে ব্যয় হয়েছিল ১০.৩৭ মার্কিন ডলার।
এছাড়া বৈঠকে আরও পাঁচটি সরকারি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) নিম্ন-আয়ের পরিবারের জন্য ১ কোটি লিটার পরিশোধিত পাম অলিন কিনবে। এতে ব্যয় হবে ১৬৩ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। সরবরাহের দায়িত্ব পেয়েছে শবনম ভেজিটেবল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ইমিউনাইজেশন কার্যক্রমে ব্যবহৃত ভ্যাকসিন ইউনিসেফ থেকে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে কেনার প্রস্তাবও অনুমোদিত হয়েছে। এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০৪ কোটি টাকা। কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি (কাফকো) থেকে ৩০ হাজার টন ইউরিয়া সার কেনার প্রস্তাবও অনুমোদিত হয়েছে, যার ব্যয় ১৭৫ কোটি ৩৫ লাখ টাকা।
‘সার সংরক্ষণ ও বিতরণের সুবিধার্থে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ৩৪টি বাফার গুদাম নির্মাণ (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্পের আওতায় চুয়াডাঙ্গায় ১০ হাজার টন ক্ষমতাসম্পন্ন একটি গুদাম নির্মাণের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ৪৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা এবং কাজের দায়িত্ব পেয়েছে এস এস রহমান ইন্টারন্যাশনাল।
বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের ‘বৈদ্যুতিক বিতরণ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও ক্ষমতাবর্ধন’ প্রকল্পের আওতায় এসপিসি পোল বা বিদ্যুতের খুঁটি কেনার প্রস্তাবও অনুমোদিত হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ২৩০ কোটি টাকা। কাজের দায়িত্ব যৌথভাবে পেয়েছে দাদা ইঞ্জিনিয়ারিং, কনটেক কনস্ট্রাকশন, টিএসসিও পাওয়ার ও পাশা পোলস লিমিটেড।