তথ্য ও সম্প্রচার ডেস্ক
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বিশ্বব্যাপী গণমাধ্যম জগতের কাঠামো এবং চেহারায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। তিনি বলেন, বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রেই প্রতিষ্ঠিত মিডিয়া হাউসের চেয়ে একজন ইউটিউবারের প্রভাব, জনপ্রিয়তা এবং দর্শক পরিধি অনেক বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। এ পরিবর্তন তথ্যপ্রযুক্তি ও কমিউনিকেশন সায়েন্সের বিকশিত পরিস্থিতির কারণে ঘটেছে।
বুধবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী বলেন, “অনলাইন পত্রিকা, আইপি টিভি এবং অনলাইনে প্রচারিত বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের উদ্ভব ঘটেছে। ফলে পূর্ববর্তী নিয়ন্ত্রণমূলক আইন কাঠামোর আওতায় এগুলো পড়ে না। অন্যদিকে, এগুলো আমাদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিপ্রেক্ষিতের অংশ হয়ে উঠেছে। সুতরাং বিষয়টি একটি সুপরিকল্পিত এবং কৌশলগত আলোচনার অন্তর্ভুক্ত।”
মন্ত্রী আরও বলেন, গণমাধ্যম সংক্রান্ত নীতি ও পদক্ষেপ গ্রহণের ক্ষেত্রে সরকার স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে সমন্বয়মূলকভাবে কাজ করতে চায়। তিনি কোনো বিচ্ছিন্ন বা আংশিক মন্তব্য প্রকাশ করতে ইচ্ছুক নন।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, “গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা এবং সুরক্ষিত পরিবেশ নিশ্চিত করা তথ্য মন্ত্রণালয়ের নৈতিক দায়িত্ব। তবে উদ্যোক্তাদের ওপর কতটা চাপ প্রয়োগ করা যাবে, তা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় আইন নেই। এই কারণে বিষয়টি একটি সুসংগত কৌশলগত আলোচনার মধ্যে নিয়ে আসা আবশ্যক। আমি সকলের সহযোগিতা আশা করছি।”
মন্ত্রী এই ব্রিফিংয়ে মূলত অনলাইন গণমাধ্যমের বর্তমান প্রভাব, নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর সীমাবদ্ধতা এবং স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে কৌশলগত সমন্বয় বিষয়ক দিকগুলো তুলে ধরেন। তিনি সাংবাদিকদের জানান, সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মধ্যে সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখতে চায়।
সম্প্রতি দেশে অনলাইন ভিডিও, ইউটিউব চ্যানেল এবং ডিজিটাল নিউজ প্ল্যাটফর্মের দর্শকসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে প্রথাগত মিডিয়ার ওপর প্রভাব এবং নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মন্ত্রী এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিকে কৌশলগতভাবে মোকাবিলা করার গুরুত্বের ওপর জোর দেন এবং জানান যে, সরকার স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করে নীতিমালা এবং পরিকল্পনা নির্ধারণ করবে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত প্রসার এবং অনলাইন কনটেন্টের সহজলভ্যতা মিডিয়ার ভূগোলকে বদলে দিয়েছে। ফলে এখন শুধু প্রচার মাধ্যমে নয়, ব্যক্তিগত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে জনগণের সঙ্গে সরাসরি সংযোগের ক্ষমতা গণমাধ্যমের প্রভাব নির্ধারণ করছে। মন্ত্রীর বক্তব্য এই বাস্তবতার স্বীকৃতি হিসেবে ধরা যেতে পারে।
এছাড়া, মন্ত্রী দেশের সাংবাদিক সম্প্রদায়ের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দায়িত্বের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, নৈতিক দায়িত্ব ও আইনগত সীমার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে সরকারের পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে।
সর্বশেষ ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন, ভবিষ্যতে গণমাধ্যম নীতি প্রণয়ন এবং নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর উন্নয়ন কার্যক্রমে সরকারের সকল পদক্ষেপ কৌশলগত ও সমন্বিত হবে, যাতে দেশের গণমাধ্যম ও তথ্য পরিবেশের স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা বজায় থাকে।