বাংলাদেশ ডেস্ক
কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকায় বাস ও ট্রেনের সংঘর্ষের ঘটনায় দায়িত্বরত দুই গেটম্যান ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানিয়েছে র্যাব। একই সঙ্গে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে এক গেটম্যানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-১১-এর উপ-অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মো. নাঈম উল হক এ তথ্য জানান।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, দুর্ঘটনার সময় সংশ্লিষ্ট রেলক্রসিংয়ে দায়িত্বে থাকা দুই গেটম্যানের কেউই সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। তাদের অনুপস্থিতির সুযোগেই বাসটি ক্রসিং অতিক্রম করতে গিয়ে ট্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। দুর্ঘটনার পর ওই দুই গেটম্যান ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে অভিযুক্ত গেটম্যান মো. হেলাল (৪১) কে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১১। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে কুমিল্লার বুড়িচং থানার শংকুচাইল এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। তিনি এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রথম এজাহারনামীয় আসামি। অপর গেটম্যানকে গ্রেপ্তারের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
র্যাবের কর্মকর্তারা জানান, প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় রেলক্রসিংয়ে সুরক্ষা ব্যবস্থা যথাযথভাবে কার্যকর ছিল না। গেটম্যানদের অনুপস্থিতির কারণে ক্রসিংয়ের গেট বন্ধ করা হয়নি এবং কোনো সতর্ক সংকেতও দেওয়া হয়নি। এতে করে বাসচালক রেললাইন পার হওয়ার সময় আসন্ন ট্রেন সম্পর্কে পর্যাপ্ত সতর্কতা পাননি বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ২২ মার্চ রাত ৩টা ১০ মিনিটে কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ মডেল থানার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড ফ্লাইওভারের নিচে অবস্থিত একটি রেলক্রসিংয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। যশোর থেকে লক্ষ্মীপুরগামী ‘মামুন স্পেশাল’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাস রেললাইন পার হওয়ার সময় একটি ট্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ১২ জন নিহত হন এবং অন্তত ২৫ জন আহত হন। আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করেন। গুরুতর আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। নিহতদের মরদেহ আইনি প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এ ঘটনায় নিহত যাত্রী সোহেল রানার খালা বাদী হয়ে লাকসাম রেলওয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় সংশ্লিষ্ট রেলক্রসিংয়ের দুই গেটম্যানকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে রেলক্রসিংয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি দীর্ঘদিনের সমস্যা। বিশেষ করে গেটম্যানদের অনুপস্থিতি, অকার্যকর সিগন্যাল ব্যবস্থা এবং জনসচেতনতার অভাব প্রায়ই দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকি জোরদার এবং দায়িত্বপ্রাপ্তদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।