জাতীয় ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রভাবে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত মোট ৭৭৫টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। বাতিলের প্রধান কারণ হিসেবে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডানের আকাশসীমা বন্ধ থাকার তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিমান চলাচল সংক্রান্ত কর্তৃপক্ষ।
ফ্লাইট ব্যবস্থাপনা সূত্রে জানা গেছে, বাতিলের সংখ্যা প্রথমদিকে প্রতিদিন উল্লেখযোগ্য রকমের ছিল। বিশেষ করে ১, ২ ও ৩ মার্চ যথাক্রমে ৪০, ৪৬ ও ৩৯টি ফ্লাইট বাতিল হয়। এরপরও প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ৩০টি ফ্লাইট বাতিলের ধারা অব্যাহত থাকে। ২৬ মার্চ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনস যেমন কুয়েত এয়ারওয়েজ, এয়ার অ্যারাবিয়া, গালফ এয়ার, কাতার এয়ারওয়েজ, এমিরেটস এবং জাজিরা এয়ারওয়েজের মোট ২২টি ফ্লাইট বাতিল হয়।
যদিও মধ্যপ্রাচ্যগামী ফ্লাইট বাতিলের সংখ্যা বেশি, সীমিত পরিসরে কিছু রুটে বিমান চলাচলও অব্যাহত রাখা হয়েছে। বিশেষ করে ওমানের মাস্কাট, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতগামী ফ্লাইটগুলো ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি মাত্র ৬টি ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছিল, যা মার্চের মাঝামাঝি থেকে দৈনিক গড়ে ৪৯ থেকে ৫০টি ফ্লাইটে উন্নীত হয়। ২৬ মার্চের জন্যও ৫০টি ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে মাস্কাটগামী ৮টি, সৌদি আরবগামী ২২টি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতগামী ২০টি ফ্লাইট রয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে দুবাই, আবুধাবি ও শারজাহে সবচেয়ে বেশি ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে।
বিমান চলাচল সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা বন্ধ থাকা সত্ত্বেও শ্রমবাজার ও প্রবাসী যাত্রীদের চাহিদার কারণে বিকল্প রুট ও সীমিত ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়েছে। বিশেষ করে সৌদি আরব ও ওমান রুটে কর্মী পরিবহন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত রুটে যাত্রীচাহিদা বিবেচনায় ফ্লাইট সংখ্যা ধাপে ধাপে বাড়ানো হচ্ছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত মোট পরিচালিত ও পরিকল্পিত ফ্লাইটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৫টি। তবে বিপুলসংখ্যক ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় যাত্রীদের অসুবিধা এখনও পুরোপুরি কাটেনি। বিমান চলাচল সংক্রান্ত কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ফ্লাইট সূচিতে অনিশ্চয়তা থাকতে পারে।