অর্থ ও প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর আশা প্রকাশ করেছেন যে, ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে চলমান যুদ্ধ বাংলাদেশের শ্রমবাজারকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করবে না। বরং যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যে বিধ্বস্ত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের শ্রমিকদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান। বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি, সম্ভাব্য শ্রমবাজার সংকট এবং বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনামূলক সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যে যে ধরনের অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে, তা পুনর্নির্মাণের জন্য উল্লেখযোগ্য মানবসম্পদ প্রয়োজন হবে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের শ্রমিকদের সুযোগ তৈরি হতে পারে।”
রেমিট্যান্স প্রভাবের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, যুদ্ধের কারণে সাময়িকভাবে কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে পুনর্গঠন কার্যক্রমে বাংলাদেশি কর্মীদের চাহিদা বৃদ্ধি পাবে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী বরাবরই থার্ড ল্যাঙ্গুয়েজ শেখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন, যা বাংলাদেশের শ্রমিকদের বৈদেশিক বেতন কাঠামোতে উন্নতি আনতে সহায়ক হবে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, জাপানসহ ইউরোপীয় দেশগুলিতে শ্রমিক প্রেরণ বাড়াতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে করা সমঝোতা (এমওইউ) কার্যকর করার উপায় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে কিছু দেশের ভিসা প্রক্রিয়ার জন্য ভারত যেতে হয়; প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন যাতে বাংলাদেশে সরাসরি কনস্যুলার সেবা নিশ্চিত করা যায়। ইতিমধ্যেই কিছু দেশ বাংলাদেশে কনস্যুলার সেবা প্রদান করছে, বাকি দেশগুলোকেও এ সেবা দেওয়ার জন্য নির্দেশনা জারি হয়েছে।
সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার মধ্যে অভিভাসন ব্যয় চূড়ান্ত করা হবে বলেও প্রতিমন্ত্রী জানান। এ প্রসঙ্গে তিনি শ্রমিক রপ্তানিতে সিন্ডিকেট বিষয়ক অভিযোগের কথাও তুলে ধরেন। নুর বলেন, “কিছু প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্টভাবে অর্থ গ্রহণ করে শ্রমিক প্রেরণ করছে, যা নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তবে সরকারি চ্যানেলের মাধ্যমে চিঠি, সাক্ষাৎ ও নোট ভারবাল দেওয়ার মাধ্যমে এই সিন্ডিকেট ভাঙার চেষ্টা করা হচ্ছে।” তিনি উদাহরণ হিসেবে সিঙ্গাপুরের ছয়টি অথরাইজড কোম্পানির কর্মকাণ্ড উল্লেখ করেন, যেখানে নিয়ন্ত্রিত ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে শ্রমিকদের প্রেরণ করা হলেও অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ করা হচ্ছে।
মালয়েশিয়া ও ভিয়েতনামের শ্রমবাজার প্রসঙ্গেও প্রতিমন্ত্রী বলেন, অতীতের কিছু সমস্যার কারণে বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য সীমাবদ্ধতা ছিল। তবে বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে প্রেরণ কিছুটা সীমিত হওয়ায় মালয়েশিয়া ও ভিয়েতনামে শ্রমবাজারে সুযোগ সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, আলোচনার মাধ্যমে শিগগিরই এসব দেশে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাবে।
সংক্ষিপ্তভাবে, প্রতিমন্ত্রীর ভাষায়, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বাংলাদেশের শ্রমবাজারে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না; বরং পুনর্নির্মাণ কার্যক্রমে শ্রমিকদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হবে। সরকারের উদ্যোগে শ্রমিক প্রেরণ প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ, সিন্ডিকেট মোকাবিলা ও বিদেশে কনস্যুলার সেবা সম্প্রসারণের মাধ্যমে বৈদেশিক কর্মসংস্থানকে আরও সুসংগঠিত ও স্বচ্ছ করার চেষ্টা চলছে।