বাংলাদেশ ডেস্ক
জাতীয় বার্তা সংস্থা বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-এর কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অবসরের বয়স ৬০ বছর থেকে বাড়িয়ে ৬২ বছর নির্ধারণ করেছে সরকার। এ বিষয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ২০২৬ সালের ১৫ মার্চ একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, যা ২০১১ সালের ১১ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে বলে গণ্য হবে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ এই গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরির মেয়াদ বাড়ানোর লক্ষ্যে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারি নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাসসের মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় স্থিতিশীলতা আনতে এবং অভিজ্ঞ জনবল ধরে রাখার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় এনে অবসরের বয়স বৃদ্ধির পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) দেশের সরকারি সংবাদ সংস্থা হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রীয় ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ পরিবেশন করে আসছে। এ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সংবাদ সংগ্রহ, সম্পাদনা ও প্রচারের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ফলে অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা এই প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অবসরের বয়স বৃদ্ধি পাওয়ায় এই অভিজ্ঞ জনবল আরও দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্ব পালন করার সুযোগ পাবেন।
সরকারি বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থায় কর্মরত কর্মকর্তাদের অবসরের বয়স নির্ধারণের ক্ষেত্রে সাধারণত একটি নির্দিষ্ট নীতি অনুসরণ করা হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবসরের বয়স পুনর্নির্ধারণের নজিরও রয়েছে। বিশেষ করে দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার প্রয়োজনীয়তা যেখানে বেশি, সেখানে অবসরের বয়স বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়ে থাকে।
এ সিদ্ধান্তের ফলে বাসসের বর্তমান কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের চাকরির মেয়াদ দুই বছর পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সহজ হবে এবং চলমান কার্যক্রমে অভিজ্ঞ কর্মীদের অবদান আরও দীর্ঘ সময় ধরে পাওয়া যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখিত কার্যকারিতার সময়কাল ২০১১ সালের ১১ ডিসেম্বর থেকে গণ্য হওয়ায়, এ সময়ের মধ্যে অবসরে যাওয়া বা অবসরের নিকটবর্তী কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রেও বিষয়টি কীভাবে প্রযোজ্য হবে, তা বাস্তবায়ন পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক নির্দেশনা জারি করা হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার কার্যক্রমে ধারাবাহিকতা ও পেশাগত দক্ষতা ধরে রাখতে অবসরের বয়স বৃদ্ধি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে অভিজ্ঞতা ও প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞানকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হবে, যা দেশের তথ্যপ্রবাহ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে সহায়ক হতে পারে।