1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ১২:২৫ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
সাইবার আইন সংস্কারে আইনজীবীদের পরামর্শ নেবে সরকার: তথ্যমন্ত্রী মাদকের সাথে জড়িতদের কোনো ছাড় নয়, হুঁশিয়ারি পানিসম্পদমন্ত্রীর বৈশ্বিক বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এলপিজির দাম কমানো হয়েছে: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী পদ্মা রেল সেতুর ভায়াডাক্টের নিচের মাটি অপসারণে কোনো ঝুঁকি নেই: রেলমন্ত্রী শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণ বন্ধে আইন প্রণয়নের আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর উপকূলীয় সুরক্ষা ও ডেল্টা অর্থনীতিতে ব্লু কার্বন অর্থায়ন জরুরি: পরিবেশমন্ত্রী স্বদেশি প্রযুক্তিতে তৈরি হচ্ছে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল সেবা: চুয়েটের ওরিয়েন্টেশনে ভূমি প্রতিমন্ত্রী দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি সোলার সেচপাম্প দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার ঘোষণা বৃদ্ধকে রাস্তায় ফেলে গেল স্বজনরা, উদ্ধার করে দায়িত্ব নিলেন প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের সাদাকে সাদা ও কালোকে কালো বলার আহ্বান মির্জা ফখরুলের

জ্বালানি সংকটে ফিলিপাইনে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা

রিপোর্টার
  • আপডেট : বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬
  • ৮৬ বার দেখা হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাবে বৈশ্বিক তেল সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় ফিলিপাইন সরকার দেশজুড়ে ‘জাতীয় জ্বালানি জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করেছে। মঙ্গলবার এক নির্বাহী আদেশে প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র এ ঘোষণা দেন। এতে দেশের জ্বালানি সরবরাহে সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকারকে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

প্রেসিডেন্টের আদেশে বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহের ওপর গুরুতর চাপ সৃষ্টি হয়েছে এবং ভবিষ্যতে তা আরও তীব্র হতে পারে। এ প্রেক্ষাপটে জরুরি ভিত্তিতে জ্বালানি ব্যবস্থাপনা ও বিতরণে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। আদেশ কার্যকর থাকলে সরকার জ্বালানি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারবে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত সহায়তা পাবে।

এই জরুরি অবস্থার আওতায় জ্বালানি তেল, খাদ্য, ওষুধসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সুশৃঙ্খল সরবরাহ নিশ্চিত করতে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিটি সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, সংকট মোকাবিলায় সুপারিশ প্রদান এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে সরকারকে সরাসরি জ্বালানি ও পেট্রোলিয়াম পণ্য ক্রয়ের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, যাতে বাজারে সরবরাহ ঘাটতি দেখা দিলে তা দ্রুত পূরণ করা যায়।

দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী জানিয়েছেন, বর্তমান ব্যবহারের হার অনুযায়ী ফিলিপাইনের হাতে মাত্র ৪৫ দিনের জ্বালানি মজুত রয়েছে। এই সীমিত মজুত পরিস্থিতি সরকারের জন্য বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে দ্রুত বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং বিদ্যমান মজুতের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এখন সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।

নির্বাহী আদেশ অনুযায়ী, ঘোষিত জরুরি অবস্থা প্রাথমিকভাবে এক বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। তবে পরিস্থিতির উন্নতি বা অবনতির ওপর ভিত্তি করে প্রেসিডেন্ট এই সময়সীমা বাড়াতে বা কমাতে পারবেন। সরকার ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে।

ফিলিপাইন তার মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৯৮ শতাংশই আমদানি করে থাকে, যার বড় অংশ আসে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে। ফলে ওই অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বা সংঘাতের কারণে সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন ঘটলে দেশটির জ্বালানি নিরাপত্তা সরাসরি ঝুঁকির মুখে পড়ে। সাম্প্রতিক সংঘাতের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় ফিলিপাইনেও তার প্রভাব পড়েছে।

গত তিন সপ্তাহে দেশটিতে একাধিক দফায় জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ডিজেল ও পেট্রোলের দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে বলে জানা গেছে। এর ফলে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যস্ফীতি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ফিলিপাইনের মতো আমদানিনির্ভর জ্বালানি অর্থনীতির দেশগুলোর জন্য এই পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক চাপে পরিণত হতে পারে। জ্বালানি খাতে অস্থিতিশীলতা উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে শিল্প ও বাণিজ্য খাতেও প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনেও সংকট দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে ব্যাহত করতে পারে।

এ অবস্থায় সরকার জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় কঠোর নজরদারি জোরদার করেছে এবং জনগণকে সাশ্রয়ী ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মনে করছে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে সংকটের প্রভাব কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026