অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
ঈদুল ফিতরের ছুটির পর প্রথম কর্মদিবসে মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছেন, দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও হঠাৎ বেড়ে যাওয়া চাহিদার কারণে পাম্পগুলোতে সাময়িক চাপ তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই, তবে কিছু মানুষ প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তেল কিনতে শুরু করায় পাম্পে সময়ের আগেই তেল শেষ হয়ে যাচ্ছে।
মন্ত্রী দেশের জনগণকে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ না করলেই সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে। সবাই প্রয়োজন অনুযায়ী তেল পাবেন, শঙ্কার কোনো কারণ নেই।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে তেল কেনার প্রবণতা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।
ইকবাল মাহমুদ টুকু বলেন, ঈদুল ফিতরের উদযাপনের সময় লাখো মানুষ গ্রামে ফিরেছেন। এই সময়ে কোথাও বাস চলাচল বন্ধ হয়নি এবং তেলের অভাব দেখা দেয়নি। এটি প্রমাণ করে যে, দেশে প্রকৃত জ্বালানি সংকট নেই; বরং মানুষের অতিরিক্ত কেনাকাটার আচরণই সাময়িক তেলের ঘাটতির পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
মন্ত্রী আরও জানান, বাংলাদেশ নিজস্ব তেল উৎপাদনের ওপর নির্ভরশীল নয় এবং অধিকাংশ জ্বালানি তেল আমদানি করতে হয়। তিনি বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রভাবের কথাও উল্লেখ করেন, যা দেশের তেল বাজারকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই জনগণকে সাশ্রয়ী হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির বিষয়ে মন্ত্রী স্পষ্ট করেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত মন্ত্রণালয়ের নয়। তেলের মূল্য নির্ধারণের অধিকার আছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের। সরকার এখনও তেলের দাম বৃদ্ধির কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি।
সভায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত উপস্থিত ছিলেন।