আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার পরিকল্পনা স্থগিত করার ঘোষণা দেওয়ার পর দেশের শেয়ারবাজারে উল্লেখযোগ্য উত্থান দেখা গেছে। মার্কিন সময় অনুযায়ী বৃহস্পতিবার দিনের শেষে তিনটি প্রধান শেয়ার সূচকই এক শতাংশের বেশি বেড়ে বন্ধ হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত এবং তেলের মূল্য হ্রাসে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। চলমান geopolitical উত্তেজনার মধ্যে এই ধরণের সিদ্ধান্ত বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। সূত্র অনুযায়ী, তেলের দাম একদিনে ১০ শতাংশের বেশি কমে যাওয়ায় ওয়াল স্ট্রিটে সূচকগুলোর গত বৃহস্পতিবারের একদিনের বৃদ্ধি ৬ ফেব্রুয়ারির পর সর্বোচ্চ রেকর্ড করেছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, তেহরানের সঙ্গে ‘ফলপ্রসূ আলোচনা’ হয়েছে, যা হামলার পরিকল্পনা স্থগিত করার পেছনের প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও ইরান এই দাবি অস্বীকার করেছে, তারপরও মার্কিন বাজারে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব দেখা দিয়েছে।
গত সপ্তাহে মার্কিন শেয়ারবাজারে পতনের পর এই উত্থানকে বিশ্লেষকরা বড় ধরনের ঘুরে দাঁড়ানো হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বিশেষ করে প্রযুক্তি ও শিল্প খাতের শেয়ারগুলোতে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি রেকর্ড করা হয়েছে। এই ধারা মার্কিন অর্থনীতিতে বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সহায়ক হিসেবে মূল্যায়িত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের যে কোনো রাজনৈতিক বা সামরিক উত্তেজনা তেলের বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলে। এতে শেয়ারবাজারও প্রভাবিত হয়। তাই ট্রাম্পের ঘোষণা এবং তেলের মূল্যের পতন একযোগে বাজারে ইতিবাচক প্রভাব তৈরি করেছে।
মার্কিন অর্থনীতি বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক উত্তেজনা ও তেলের দামের ওঠানামা বিনিয়োগকারীদের আচরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তাই ভবিষ্যতে মার্কিন শেয়ারবাজারের ওঠাপড়া মূলত আন্তর্জাতিক নীতি ও জ্বালানি মূল্যের পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত থাকবে।