আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার বাঘের কালিবাফ সোমবার (২৩ মার্চ) দাবি করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো ধরনের যুদ্ধবিরতি বা শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার) এ দেয়া এক পোস্টে তিনি এই তথ্য জানিয়ে বলেছিলেন, আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে প্রভাব বিস্তার করতে মার্কিন প্রশাসন ভুয়া তথ্য ছড়াচ্ছে।
কালিবাফের অভিযোগ, ইরান কোনও আগ্রাসন শুরু করেনি; বরং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বর্তমানে তৎপরতায় জড়িত এবং তারা চোরাবালির মতো পরিস্থিতিতে আটকে পড়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের চেষ্টা করছে পশ্চিমা দেশগুলো, কিন্তু ইরান তাদের কৌশলের বিরুদ্ধে সজাগ রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আগ্রাসনকারীদের যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চলবে। সরকারের সকল কর্মকর্তা, সর্বোচ্চ নেতা এবং জনগণ এই প্রক্রিয়ার সাথে একাত্ম থাকবে এবং লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত প্রতিরোধ অব্যাহত থাকবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কালিবাফের এই মন্তব্য ইরানের কূটনৈতিক অবস্থানকে দৃঢ়ভাবে প্রকাশ করে এবং উত্তেজনা বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্য ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে ওঠানামা করছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে সামরিক সংঘাত ও রাজনৈতিক উত্তেজনা তেলের সরবরাহে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করতে পারে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনাপূর্ণ। গত কয়েক বছরে পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাহার, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক শক্তির প্রক্ষেপণ এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করেছে। বিশেষ করে ইরান উপসাগরীয় তেল রপ্তানিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় যে কোনো রাজনৈতিক বা সামরিক উত্তেজনা সরাসরি তেল বাজারকে প্রভাবিত করতে পারে।
ইরানি কর্তৃপক্ষের এই ধরনের মন্তব্য সামরিক ও কূটনৈতিক পর্যায়ে সতর্কতা বৃদ্ধি করার পাশাপাশি, দেশটির অভ্যন্তরীণ জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান হিসাবেও দেখা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, কালিবাফের বক্তব্য পশ্চিমা দেশগুলোর জন্য সতর্কবার্তা এবং ইরানের সরকার, পার্লামেন্ট ও জনগণ এককভাবে দেশের স্বার্থ রক্ষায় দৃঢ় থাকছে—এটি আন্তর্জাতিক মঞ্চে ইরানের অবস্থানকে শক্তিশালী করার কৌশল হিসেবেও মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যে কোনো সম্ভাব্য কূটনৈতিক যোগাযোগে এই অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, এবং মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে তা দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।