আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরান এবং ইসরাইলের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে সোমবার (২৩ মার্চ) উত্তর ইসরাইলের কিরিয়াত শমোনা শহরে এক সংবাদ সম্মেলনের সময় ইসরাইলি প্রেসিডেন্টকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার একটি ঘটনা নজর কেড়েছে। স্থানীয় সময় দুপুরে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনের সময় ইরানের মিসাইল আঘাত হানে শহরের কাছে, যা মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল ভিডিও হিসেবে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওতে দেখা যায়, প্রেসিডেন্ট সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে হঠাৎ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শব্দ শোনা যায় এবং সঙ্গে সঙ্গে তিনি দৌড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যান। নিরাপত্তাকর্মীরা সঙ্গে সঙ্গে তাকে সংরক্ষিত এলাকায় নিয়ে যান। কোনো আহত বা ক্ষতির তথ্য এখনও প্রকাশিত হয়নি।
ইসরাইলি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, প্রেসিডেন্ট সংবাদ সম্মেলনে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য কৌশলগত ও প্রতিরক্ষা উদ্যোগ নিয়ে কথা বলছিলেন। এ সময় তিনি উল্লেখ করেন, ইসরাইল গত বছরের যুদ্ধবিরতিতে ফিরে যেতে পারবে না এবং দেশকে লেবাননের ভেতরে ‘কৌশলগত গভীরতা’ নিশ্চিত করতে হবে।
ইরান-ইসরাইল উত্তেজনা গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে তীব্র আকার নিয়েছে। ইরান, আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির নেতৃত্বে, ইসরাইলি ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও কূটনৈতিক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নিচ্ছে। এর মধ্যে সাম্প্রতিক মিসাইল হামলা ও উত্তেজনাপূর্ণ ঘটনা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর কেড়েছে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানি মিসাইল হামলার পর থেকে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে না। এর ফলে প্রেসিডেন্ট হারজগ মাঝে মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে পরিদর্শনে যাচ্ছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান-ইসরাইল সংঘাতে সাম্প্রতিক হামলা কেবল নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্ব এবং প্রেসিডেন্ট ও কর্মকর্তাদের সুরক্ষা নিয়ে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করছে।
ইসরাইলের নাগরিকদের মধ্যে নিরাপত্তা ও আতঙ্ক বৃদ্ধি পাওয়ায় শহরে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। তেল আবিব ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা পরিস্থিতি মনিটরিং করে চলেছেন, যাতে সীমান্তবর্তী উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়া এড়ানো যায়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ইরান-ইসরাইল উত্তেজনা দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক ও সামরিক প্রভাব ফেলতে পারে। এর মধ্যে কোনো ভুল হিসাব, সীমান্ত সংঘর্ষ, বা কৌশলগত হামলা ভবিষ্যতের সংঘাতের মাত্রা বাড়াতে পারে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ যে শান্তি প্রক্রিয়া ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
কিরিয়াত শমোনায় প্রেসিডেন্টকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরানোর ভিডিও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হওয়ার পর পরিস্থিতি এবং উত্তেজনা সম্পর্কে বৈশ্বিক পর্যবেক্ষণ বাড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি সাম্প্রতিক সময়ে ইরান-ইসরাইল সংঘাতের একটি প্রতীকী ঘটনা হিসেবে দেখা যেতে পারে।