আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সঙ্গে বিস্তারিত ফোনালাপ করেছেন, যেখানে জ্বালানি নিরাপত্তা, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে এর প্রভাব বিষয়ক আলোচনা প্রধান স্থান পেয়েছে। জয়শঙ্কর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, আলোচনায় তারা বিশেষভাবে জ্বালানি নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় করেছেন।
ফোনালাপের সময়, ভারতের প্রতিসংস্থা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী, যা বৈশ্বিক এলএনজি সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে সম্প্রতি উত্তেজনা লক্ষ্য করা গেছে। জাহাজ চলাচলের তথ্য পর্যালোচনাকারী সংস্থা ‘মেরিন ট্র্যাফিক’-এর তথ্য অনুযায়ী, এ হুমকির মধ্যে থাকা সত্ত্বেও ভারতের পতাকাবাহী দুটি এলএনজি ট্যাঙ্কার নিরাপদভাবে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে।
এই ফোনালাপ ও নৌপথে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের ঘটনা আন্তর্জাতিক শক্তি ও বাজারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলে, যা তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের মূল্য স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের মতো জ্বালানি আমদানিকারী দেশগুলোর জন্য নিরাপদ সরবরাহ চেইন নিশ্চিত করা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্যও অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই আলোচনাকে দুই দেশের মধ্যে শক্তিশালী কৌশলগত অংশীদারিত্বের অংশ হিসেবে দেখছে। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত এবং জ্বালানি সরবরাহ ঝুঁকি নিয়ে নিয়মিত তথ্য বিনিময় এবং কৌশলগত সমন্বয় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে সহায়ক বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
হরমুজ প্রণালী বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এনার্জি চ্যানেলের মধ্যে একটি। আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজি ও তেলের সরবরাহে এই প্রণালীর স্থিতিশীলতা অপরিহার্য। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান-সংক্রান্ত হুঁশিয়ারি এবং জাহাজ লক্ষ্য করে হামলার হুমকির কারণে এই নৌপথকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা বাড়ানো এবং জাহাজ চলাচল মনিটরিংয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতের ট্যাঙ্কারগুলো নিরাপদে প্রণালী অতিক্রম করায় দেশের জ্বালানি সরবরাহের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে। এটি স্থানীয় ও বৈশ্বিক বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে চলমান দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ও কৌশলগত সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে।