আন্তর্জাতিক ডেস্ক
কলম্বিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে সামরিক বাহিনীর একটি ‘হারকিউলিস সি-১৩০’ পরিবহন বিমান বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত ৬৬ জন নিহত হয়েছেন। সোমবার (২৩ মার্চ) পুয়ের্তো লেগুইজামো থেকে উড্ডয়নের অল্প সময়ের মধ্যেই দুর্ঘটনাটি ঘটে। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে, যা প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত চলমান রয়েছে।
প্রাথমিক তথ্যানুসারে, উড্ডয়নের পরপরই বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রানওয়ের শেষ প্রান্তে একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা খায়। সংঘর্ষের পরপরই বিমানটিতে আগুন ধরে যায় এবং তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুনের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ শুরু করলেও বিস্ফোরক সামগ্রী থাকার কারণে উদ্ধার কার্যক্রম জটিল হয়ে পড়ে।
দুর্ঘটনার সময় বিমানে মোট ১২১ জন আরোহী ছিলেন। এর মধ্যে ১১০ জন সৈন্য এবং ১১ জন ক্রু সদস্য ছিলেন বলে জানা গেছে। নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই সামরিক সদস্য। আহতদের সংখ্যা নির্দিষ্টভাবে জানা না গেলেও বেশ কয়েকজনকে গুরুতর অবস্থায় স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুর্গম এলাকা হওয়ায় সরকারি উদ্ধারকারী দলের ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে সময় লাগে। এর মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দারা নিজ উদ্যোগে মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহনের মাধ্যমে আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন।
দুর্ঘটনার পর কলম্বিয়ার রাষ্ট্রপতি গুস্তাভো পেত্রো সামরিক বাহিনীর কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ধীরগতির সমালোচনা করে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তিনি আহতদের চিকিৎসা ও নিহতদের পরিবারের প্রতি সহায়তা নিশ্চিত করার কথাও জানান।
বিধ্বস্ত ‘সি-১৩০’ বিমানটি বহুমুখী সামরিক পরিবহন হিসেবে বিশ্বব্যাপী ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এটি মার্কিন প্রতিরক্ষা শিল্প প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিনের তৈরি, যা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দেশের সামরিক বাহিনীতে ব্যবহৃত হচ্ছে। কলম্বিয়াতেও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সংঘাত পরিস্থিতিতে সৈন্য ও সরঞ্জাম পরিবহনে এই মডেলের বিমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিধ্বস্ত বিমানটি সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরবরাহ করা আধুনিক মডেলগুলোর একটি ছিল।
দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও নিশ্চিত করা হয়নি। তবে প্রযুক্তিগত ত্রুটি, রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি কিংবা উড্ডয়নের সময় পরিবেশগত কারণ—সবগুলো বিষয়ই তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে। নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে দুর্ঘটনার তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি একই ধরনের সামরিক পরিবহন বিমানের দুর্ঘটনা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। গত ফেব্রুয়ারিতে প্রতিবেশী দেশ বলিভিয়াতেও একই মডেলের একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ২০ জন নিহত হন। ধারাবাহিক এ ধরনের দুর্ঘটনার ফলে সামরিক সরঞ্জামের নিরাপত্তা, রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নিয়মিত কারিগরি পরীক্ষা ও আধুনিকায়নের অভাব এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
বর্তমানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং নিহতদের পরিচয় শনাক্তসহ ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রস্তুতের কাজ চলছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত কোনো মন্তব্য করা হবে না।