আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা হয়নি বলে দাবি করেছেন। একই বিষয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনার খবর অস্বীকার করেছে। তবে অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হয়েছে বলে দাবি করেছেন, যা নিয়ে দুই দেশের অবস্থানের মধ্যে স্পষ্ট বিভাজন তৈরি হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে গালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। তিনি দাবি করেন, আন্তর্জাতিক আর্থিক ও তেলের বাজারে প্রভাব বিস্তার এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতি সামাল দিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। তার এই বক্তব্যের আগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকেও একই ধরনের অবস্থান জানানো হয়।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই এক বিবৃতিতে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার খবর সঠিক নয় এবং হরমুজ প্রণালি ও যুদ্ধবিরতির শর্ত নিয়ে তেহরানের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন হয়নি। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার বরাতে তিনি জানান, যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কিছু বন্ধু দেশের মাধ্যমে বার্তা পৌঁছেছে, তবে তা আনুষ্ঠানিক আলোচনা হিসেবে বিবেচিত নয়।
বাগাই আরও বলেন, ইরান তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর সম্ভাব্য যেকোনো হামলার বিষয়ে সতর্ক রয়েছে এবং এ ধরনের পদক্ষেপের ক্ষেত্রে কঠোর প্রতিক্রিয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। এতে বোঝা যায়, কূটনৈতিক যোগাযোগের সম্ভাবনা থাকলেও তা এখনো আনুষ্ঠানিক আলোচনার পর্যায়ে পৌঁছায়নি।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানায়, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কিছু বার্তা ইরানের কাছে পৌঁছেছে এবং তেহরান সেগুলো পর্যালোচনা করছে। এই তথ্য ইরানের আনুষ্ঠানিক অবস্থানের সঙ্গে আংশিক ভিন্নতা তৈরি করে, যা পরিস্থিতির জটিলতা তুলে ধরে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি আলোচনা হয়েছে এবং এতে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। তিনি বলেন, আলোচনায় দুই পক্ষ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে একমত হওয়ার কাছাকাছি পৌঁছেছে। ট্রাম্পের মতে, আলোচনার সূচনা ইরানের পক্ষ থেকেই হয়েছিল।
ফ্লোরিডার একটি বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প জানান, আলোচনাটি ইতিবাচক ছিল এবং তা পরবর্তী দিনেও অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, উভয় পক্ষই একটি সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়ে আগ্রহী এবং বিষয়টি দ্রুত অগ্রসর হতে পারে। তবে আলোচনায় অংশগ্রহণকারী ইরানি নেতার নাম তিনি প্রকাশ করেননি, শুধু এটুকু বলেন যে তিনি একজন উচ্চপর্যায়ের সম্মানিত ব্যক্তি।
এই পরস্পরবিরোধী বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনার বিষয়টি অস্বীকার করলেও, বিভিন্ন মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদানের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, পরোক্ষ কূটনৈতিক যোগাযোগ চলমান থাকতে পারে, যদিও তা এখনো প্রকাশ্য বা আনুষ্ঠানিক আলোচনায় রূপ নেয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা, এ ধরনের কূটনৈতিক তৎপরতাকে প্রভাবিত করছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যেকোনো সম্ভাব্য আলোচনার বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, দুই পক্ষের আনুষ্ঠানিক অবস্থানের মধ্যে পার্থক্য থাকলেও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় কূটনৈতিক যোগাযোগের সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। পরিস্থিতি কোন দিকে অগ্রসর হবে, তা নির্ভর করবে ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক পদক্ষেপ ও পারস্পরিক আস্থার ওপর।