খেলাধূলা ডেস্ক
আসন্ন আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচকে সামনে রেখে ইনজুরির কারণে স্কোয়াডে পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয়েছে ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দল। অভিজ্ঞ লেফট-ব্যাক অ্যালেক্স সান্দ্রো চোট পেয়ে ছিটকে যাওয়ায় তার পরিবর্তে তরুণ ডিফেন্ডার কাইকি ব্রুনোকে দলে অন্তর্ভুক্ত করেছেন প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি।
রোববার ব্রাজিলিয়ান লিগে ফ্লামেঙ্গো ও করিন্থিয়ান্সের মধ্যকার ম্যাচে সান্দ্রো ইনজুরিতে আক্রান্ত হন। ম্যাচ চলাকালীন পাওয়া এই চোটের কারণে তাকে স্কোয়াড থেকে বাদ দিতে হয় এবং শেষ মুহূর্তে বিকল্প খেলোয়াড় হিসেবে কাইকি ব্রুনোকে ডাকা হয়। ২০১৯ সালের কোপা আমেরিকা জয়ী এই ডিফেন্ডারের অনুপস্থিতি দলীয় রক্ষণভাগে প্রভাব ফেলতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
কাইকি ব্রুনো বর্তমানে ব্রাজিলের ক্লাব ক্রুজেইরোর হয়ে খেলছেন। ২৩ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার এখনো জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক না করলেও বয়সভিত্তিক পর্যায়ে তার পারফরম্যান্স ইতোমধ্যে নজর কেড়েছে। তিনি ২০২৩ সালে দক্ষিণ আমেরিকার অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ী ব্রাজিল দলের সদস্য ছিলেন। একই বছরে অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত খেলেছেন তিনি। জাতীয় দলের মূল স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত হওয়া তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এর আগে দলের প্রথম পছন্দের গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকার ইনজুরিতে পড়ায় তার পরিবর্তে হুগো সুজাকে দলে নেওয়া হয়। ফলে প্রীতি ম্যাচের আগে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতিতে কিছুটা চাপের মুখে পড়েছে ব্রাজিল দল। কোচিং স্টাফের জন্য এটি দলীয় ভারসাম্য পুনর্গঠনের একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ব্রাজিল আগামী ২৬ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে ফ্রান্সের বিপক্ষে এবং ৩১ মার্চ অরল্যান্ডোতে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে দুটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলবে। এই ম্যাচগুলোকে ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রতিপক্ষ হিসেবে ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়া—উভয়ই সাম্প্রতিক সময়ে শক্তিশালী দল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে, ফলে ম্যাচ দুটি ব্রাজিলের জন্য পরীক্ষামূলক হলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন, দলীয় কৌশল নির্ধারণ এবং নতুন খেলোয়াড়দের সুযোগ দেওয়ার জন্য এই প্রীতি ম্যাচগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে নতুন অন্তর্ভুক্ত খেলোয়াড়দের জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের প্রমাণ করার সুযোগ তৈরি হবে।
এদিকে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে ব্রাজিল গ্রুপ পর্বে মরক্কো, হাইতি ও স্কটল্যান্ডের সঙ্গে একই গ্রুপে অবস্থান করছে। ১৩ জুন মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হবে। গ্রুপের প্রতিটি দলই ভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
সব মিলিয়ে, ইনজুরির কারণে স্কোয়াডে পরিবর্তন এবং নতুন খেলোয়াড়দের অন্তর্ভুক্তি ব্রাজিল দলের জন্য একদিকে যেমন চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে এটি সম্ভাবনাময় বিকল্প খুঁজে পাওয়ার সুযোগও তৈরি করছে। আসন্ন প্রীতি ম্যাচগুলোতে দলের পারফরম্যান্স বিশ্বকাপ প্রস্তুতির অগ্রগতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হবে।