অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান রাজনৈতিক ও সামরিক সংঘাতের প্রভাব বিশ্ববাজারে সরাসরি প্রতিফলিত হতে শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম একদিনে দুই শতাংশের বেশি কমে পৌঁছেছে, যা প্রায় চার মাসের সর্বনিম্ন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ক্রমবর্ধমান সংঘাত, বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি ও সুদের হার বৃদ্ধির প্রত্যাশা এই ধাতুর দরপতনের মূল কারণ।
মঙ্গলবার (২৩ মার্চ) আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম ২.৫ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি আউন্স ৪,৩৭২.৮৬ ডলারে নেমেছে। এটি টানা নবম দিন যে স্বর্ণের দাম কমেছে। গত সপ্তাহেই স্বর্ণের দাম প্রায় ১০ শতাংশের বেশি পতন করেছে। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘায়িত সংঘাত এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণের মতো নিরাপদ বিনিয়োগ থেকে অর্থ সরাচ্ছিলেন, যা দরপতনকে ত্বরান্বিত করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে হামলার হুমকি দেওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। জবাবে ইরান জানিয়েছে, এমন হামলা হলে উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
এ পরিস্থিতির প্রভাব তেলের বাজারেও পড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারের ওপরে অবস্থান করছে। বিনিয়োগকারীরা আশঙ্কা করছেন, মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পেলে বিশ্বের প্রধান অর্থনীতিগুলোর জন্য জ্বালানি ও উৎপাদন ব্যয় বাড়বে। একই সঙ্গে এশিয়ার শেয়ারবাজারে বড় ধরনের পতনের কারণে বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণ থেকে অর্থ তুলে নিচ্ছেন, যা স্বর্ণের বাজারে আরও চাপ তৈরি করছে।
ধাতু বাজারের অন্যান্য খাতেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। স্পট রুপার দাম ৩.২ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি আউন্স ৬৫.৬১ ডলারে নেমেছে। স্পট প্লাটিনামের দাম ২.৯ শতাংশ কমে ১,৮৬৬.৬৫ ডলারে, এবং প্যালাডিয়ামের দাম ০.৫ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ১,৩৯৭.২৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, সুদের হার বৃদ্ধি এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে ধাতুর বাজারে অস্থিরতা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করেছেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বর্ণ এবং অন্যান্য মূল্যবান ধাতুতে বিনিয়োগের ঝুঁকি বেড়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে দাম ওঠা-নামার প্রভাব বৈশ্বিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতায় দীর্ঘমেয়াদে প্রভাব ফেলতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সংস্থা ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মূল্যবৃদ্ধি এবং বাজার অস্থিরতার প্রভাব পর্যবেক্ষণ করছে। দীর্ঘমেয়াদে এই সংঘাত ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বিশ্ববাজারে বিনিয়োগের ধারা ও মূল্যবান ধাতুর চাহিদাকে প্রভাবিত করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।