আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক এফবিআই পরিচালক রবার্ট মুলার শুক্রবার গভীর রাতে মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৮১ বছর। মুলার দীর্ঘ চার দশকের বেশি সময় সরকারি দায়িত্বে ছিলেন এবং মার্কিন নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন তদন্তের নেতৃত্ব দিয়েছেন।
মার্কিন গণমাধ্যম পারিবারিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, মৃত্যুর সঠিক স্থান ও কারণ এখনও প্রকাশ করা হয়নি। মুলারের মৃত্যু সংবাদ প্রকাশের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ লিখেছেন, মুলারের প্রয়াণে তিনি খুশি, এবং যুক্তরাষ্ট্রে আর নিরীহ মানুষদের ক্ষতি করতে পারবে না।
রবার্ট মুলার ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আল-কায়েদা হামলার কয়েকদিন আগে এফবিআই প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি ১২ বছর ধরে এই দায়িত্ব পালন করেন এবং এই সময়ে সংস্থার সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম জোরদার করেন। এফবিআই থেকে বিদায়ের পর যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ তাকে বিশেষ কৌঁসুলি হিসেবে নিযুক্ত করে। ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণা দলের সঙ্গে রাশিয়ার যোগসাজশের বিষয়টি তদন্তের দায়িত্বও পান তিনি।
মুলারের নেতৃত্বে এই রাশিয়া তদন্ত প্রায় দুই বছর নীরবে পরিচালিত হয়। ২০১৯ সালের জুলাইয়ে তিনি কংগ্রেসে সাক্ষ্য দেন। ওই সময় ট্রাম্প এই তদন্তকে ‘উইচ হান্ট’ বা সাজানো অনুসন্ধান হিসেবে অভিহিত করলেও, মুলার বিস্তারিত প্রতিবেদনের দিকে নির্দেশ দিয়ে রাজনৈতিক চাপের মধ্যে অব্যাহত পেশাদারিত্ব দেখান। তিনি বলেন, তাঁর দল তৈরিকৃত প্রতিবেদন প্রেসিডেন্টকে দায়মুক্ত করেনি।
চার দশকের বেশি সরকারি কর্মকাণ্ডে মুলার বিভিন্ন প্রেসিডেন্টের অধীনে কাজ করেছেন। রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল রাশিয়া তদন্তের আগে ও পরে তাঁর ওয়াশিংটন কেরিয়ারের সুনাম উজ্জ্বল ছিল। তিনি ভিয়েতনাম যুদ্ধে মেরিন কর্মকর্তা হিসেবে অংশ নেন, আহত হন এবং বীরত্বের জন্য পদক লাভ করেন।
২০১৯ সালে ট্রাম্প মনোনীত এফবিআই প্রধান ক্রিস্টোফার রে মুলারকে ‘পূর্ণাঙ্গ পেশাদার এবং সোজাসাপ্টা মানুষ’ বলে উল্লেখ করেন। এফবিআই প্রধান হিসেবে তিনি কঠোর কর্মসংস্কৃতির জন্য পরিচিত ছিলেন। মুলারের রাজনৈতিক অবস্থান মূলত রিপাবলিকান ঘরানার হলেও, দুই দলের রাজনীতিকের কাছে তিনি গ্রহণযোগ্য ছিলেন।
তার উল্লেখযোগ্য মামলাগুলোর মধ্যে রয়েছে নিউইয়র্কের মাফিয়া নেতা জন গট্টি এবং পানামের জেনারেল ম্যানুয়েল নরিয়েগার বিরুদ্ধে বিচার। ২০১৭ সালের মে মাসে ট্রাম্প এফবিআই প্রধান জেমস কোমিকে বরখাস্ত করার পর রাশিয়ার হস্তক্ষেপ সংক্রান্ত নির্বাচনী তদন্তে নেতৃত্ব দিতে আবারও মুলারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
২২ মাসের অনুসন্ধানে মুলারের নেতৃত্বাধীন তদন্ত টিম ট্রাম্পের ছয় সহযোগীসহ ৩৪ জন ব্যক্তি ও তিনটি প্রতিষ্ঠানকে অভিযোগের মুখে ফেলে। তদন্তের ফলাফল মার্কিন রাজনৈতিক পরিপ্রেক্ষিতে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনার বিষয় হয়ে থাকে এবং নির্বাচনী স্বচ্ছতা ও সংস্থা নিরপেক্ষতার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে গণ্য হয়।
মুলারের মৃত্যুতে যুক্তরাষ্ট্রে আইন-শৃঙ্খলা, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং রাজনৈতিক তদন্তে তাঁর অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি তার দীর্ঘ কর্মজীবনে সংস্থার পেশাদারিত্ব, নীতি ও দায়িত্বের প্রতি অটল ছিলেন, যা পরবর্তী প্রজন্মের আইনশৃঙ্খলা কর্মকর্তাদের জন্য দিকনির্দেশক হিসেবে কাজ করবে।