অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী রোববার বলেন, নানা চ্যালেঞ্জ এবং আন্তর্জাতিক অস্থিরতার মধ্যেও সরকার জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করছে। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাব বাংলাদেশের দ্রব্যমূল্যে পড়েনি, তেলের দাম বৃদ্ধি পায়নি এবং তেলের কোনো সংকট দেখা দেয়নি। পাশাপাশি, পরিবহনে ভাড়া বৃদ্ধি হয়নি, ফলে দেশের অর্থনৈতিক ক্রিয়াকলাপ স্বাভাবিক গতিতে এগোচ্ছে।
রোববার নগরের মেহেদিবাগে আয়োজিত ঈদুল ফিতর-পরবর্তী মেজবানিতে তিনি সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। অর্থমন্ত্রী বলেন, “সরকারের প্রতিশ্রুতিগুলো পূর্ণ বাস্তবায়নের জন্য জনগণের সহযোগিতা অপরিহার্য। সবাই মিলে সহযোগিতা করলে দেশ এভাবে এগিয়ে যাবে।” তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষ গণতান্ত্রিক পরিবেশে স্থিতিশীলভাবে জীবনযাপন করছে এবং তাদের মধ্যে স্বাভাবিক আনন্দ ও ঈদের উৎসবের উদযাপন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি ইতিবাচক প্রতিফলন ঘটাচ্ছে।
মেজবানিতে নগরের বিভিন্ন ওয়ার্ডের বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও মহিলাদলসহ নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি মূলত ঈদ পুনর্মিলনী হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়। সকাল থেকে নেতাকর্মীরা দলে দলে আসতে শুরু করেন এবং বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিতির সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। এতে একটি আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
একই দিনে নগরের স্মরণিকা ক্লাবে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন মেজবানির আয়োজন করেন। এ ছাড়া চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান, চট্টগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক আসলাম চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্করও স্থানীয় নেতাকর্মী ও পেশাজীবীদের সম্মানে ঈদ-পরবর্তী মেজবানির আয়োজন করেন। এসব অনুষ্ঠান মন্ত্রী-এমপিদের বাসা-বাড়ি ও কমিউনিটি সেন্টারগুলোতে ব্যাপক উপস্থিতি এবং সামাজিক মিলন ঘটায়।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, সামাজিক ও সাংগঠনিক আয়োজনের মাধ্যমে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ভাতৃত্ববোধ ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধি পাবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই ধরনের পুনর্মিলনী দলীয় ভিত্তি শক্তিশালী করতে এবং নেতাকর্মীদের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অর্থমন্ত্রী এসময় দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, স্থিতিশীল দ্রব্যমূল্য, তেলের স্থিতিশীল দাম এবং পরিবহনের ভাড়ার পরিবর্তনহীন অবস্থা দেশের অর্থনৈতিক ক্রিয়াকলাপকে সচল রাখছে। তিনি সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের পাশাপাশি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
এই মেজবানিসহ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানগুলো রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে সাধারণ মানুষের সংযোগ বাড়াতে এবং সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করতে সহায়ক ভূমিকা রাখে। আয়োজনগুলো দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সংহতি বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।