বাংলাদেশ ডেস্ক
কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড রেলক্রসিংয়ে ট্রেন-বাস সংঘর্ষের ঘটনায় ১২ জন নিহত ও অন্তত ২৪ জন আহত হওয়ার প্রেক্ষিতে দেশের রেলক্রসিংগুলোতে স্বয়ংক্রিয় রেলগেট চালুর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। রোববার (২২ মার্চ) দুপুরে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এ তথ্য জানান।
রেল প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে বিদ্যমান রেলগেটগুলোতে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা চালু করা হবে, যাতে ট্রেন নির্দিষ্ট দূরত্বে পৌঁছালে স্বয়ংক্রিয়ভাবে গেট বন্ধ হয়ে যায়। এ ব্যবস্থার পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গেটম্যানও দায়িত্বে থাকবেন। তিনি জানান, দুর্ঘটনা প্রতিরোধে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যেখানে রেলক্রসিং রয়েছে এবং যানবাহনের চাপ বেশি, সেসব স্থানে ধাপে ধাপে আন্ডারপাস বা ফ্লাইওভার নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে করে সড়ক ও রেলপথের সংঘর্ষের ঝুঁকি কমবে এবং যান চলাচল আরও নির্বিঘ্ন হবে।
দুর্ঘটনার কারণ ও তদন্ত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট স্টেশন মাস্টার ও গেটম্যানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে এবং স্থানীয় প্রশাসন পৃথকভাবে আরেকটি তদন্ত কমিটি করেছে। তদন্তে কারো গাফিলতি প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।
ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা প্রসঙ্গে রেল প্রতিমন্ত্রী বলেন, নিহতদের পরিবারকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রেলওয়ের পক্ষ থেকে নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে এক লাখ টাকা করে অনুদান দেওয়া হবে। আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে এবং গুরুতর আহতদের প্রয়োজনে ঢাকায় স্থানান্তরের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
শনিবার (২১ মার্চ) রাতে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং এলাকায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে নোয়াখালীগামী ‘মামুন পরিবহন’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি মেইল ট্রেনের সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ১২ জন নিহত হন এবং অন্তত ২৪ জন আহত হন। আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, দুর্ঘটনাস্থলটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে পরিচিত। ম্যানুয়াল রেলগেট ব্যবস্থার ত্রুটি ও অসতর্কতা অনেক সময় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর স্বয়ংক্রিয় রেলগেট, আন্ডারপাস ও ফ্লাইওভার নির্মাণের মাধ্যমে এ ধরনের দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা সম্ভব।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং রেলক্রসিং নিরাপত্তা জোরদারে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।