সারাদেশ ডেস্ক
শনিবার (২১ মার্চ) রাতে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং এলাকায় একটি বাস এবং ট্রেনের সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র এবং রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমানের তথ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষটি ঘটেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে নোয়াখালীর দিকে যাওয়া মামুন পরিবহন নামের যাত্রীবাহী বাস এবং চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার দিকে চলাচলরত একটি মেইল ট্রেনের মধ্যে। কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার অফিসার ইনচার্জ সিরাজুল মোস্তফা দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. অমিত ভৌমিক নিহত ১২ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এই দুর্ঘটনার পর রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। প্রথম কমিটিতে ডিপুটি ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (ডিটিও), ডেপুটি ইঞ্জিনিয়ার নেটওয়ার্ক-১ (ডেন-১), ডিপুটি সিগনাল টেকনিশিয়ান ইন্সপেক্টর (ডিএসটিই), ডিএমই (লোকোমোটিভ), ডিপুটি ম্যানেজার অফিস (ডিএমও) এবং আরএনবি কমান্ড্যান্টকে সদস্য করা হয়েছে। অপর কমিটিতে সিএফও পলিসি (সিওপিএস), চিফ ইঞ্জিনিয়ার (সিই), চিফ মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার (সিএমই), চিফ মেডিকেল অফিসার (সিএমও), চিফ সিগনাল টেকনিশিয়ান ইন্সপেক্টর (সিএসটিই) এবং সিসি (আরএনবি) কে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং এলাকায় পূর্বেও অপ্রত্যাশিত দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। সঠিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় নিয়মিত ট্রাফিক ও রেল চলাচলের সময় এই ধরনের সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়ছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে রেলক্রসিং এলাকার নিরাপত্তা ও সতর্কতা ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
কুমিল্লা জেলা প্রশাসন ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ আহতদের চিকিৎসার পাশাপাশি দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য তদন্ত তৎপরতা চালাচ্ছে। এ ধরনের ঘটনা পুনরায় না ঘটার জন্য রেল ক্রসিং এলাকায় যথাযথ সিগন্যাল ব্যবস্থা, অ্যালার্ম সিস্টেম এবং পথচারী ও যানবাহন নিয়ন্ত্রণে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়ার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।