সারাদেশ ডেস্ক
ফেনীতে বাস, অ্যাম্বুলেন্স ও মোটরসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। রোববার (২২ মার্চ) ভোরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনী জেলার রামপুর লাতুমিয়া সড়কসংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। একই সময়ে ঝিনাইদহের দুই উপজেলায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় এক স্কুলছাত্রসহ আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে।
পুলিশ জানায়, ফেনীর মহাসড়কের ওই অংশে একটি লেনের সংস্কারকাজ চলছিল। ভোরের দিকে একটি অ্যাম্বুলেন্স ধীরগতিতে কাজ চলমান অংশ অতিক্রম করছিল। এ সময় চট্টগ্রামমুখী একটি যাত্রীবাহী বাস পেছন থেকে অ্যাম্বুলেন্সটিকে ধাক্কা দেয়। এতে দুই চালকের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হলে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ সৃষ্টি হয় এবং পেছনে যানজটের সৃষ্টি হয়।
এর কিছুক্ষণ পর দ্রুতগতিতে আসা আরেকটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে জটলার মধ্যে ঢুকে পড়ে। এতে বাস, অ্যাম্বুলেন্স ও একটি মোটরসাইকেলের মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষ ঘটে। দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলের এক আরোহী, একটি বাসের সুপারভাইজার এবং এক যাত্রী ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হন। গুরুতর আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে পাঠানো হয়েছে এবং বাকিদের ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মহাসড়কের ওই অংশে চলমান উন্নয়নকাজের কারণে যানবাহন চলাচলে ধীরগতি এবং অনিয়মিততা তৈরি হচ্ছিল, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানো ও নিরাপদ দূরত্ব বজায় না রাখাও দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, ঝিনাইদহ জেলার হরিণাকুণ্ডু ও মহেশপুর উপজেলায় শনিবার পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় আরও দুজন নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে একজন স্কুলছাত্র।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে ঈদের নামাজ শেষে বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে বের হয় হরিণাকুণ্ডু উপজেলার বাসিন্দা স্কুলছাত্র আব্দুল গফুর। পরে একটি নসিমন গাড়িতে করে যাত্রাকালে নগরবাথান বাজার এলাকায় পৌঁছালে অসাবধানতাবশত গাড়ি থেকে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হয় সে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
অপর ঘটনায়, মহেশপুর উপজেলার কেশবপুর এলাকায় বন্ধুদের সঙ্গে মোটরসাইকেলে ঘুরতে বের হন রনি হোসেন। পথে বিপরীত দিক থেকে আসা আরেকটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রনিকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, পৃথক এসব দুর্ঘটনার পেছনে অসাবধানতা, অতিরিক্ত গতি এবং সড়ক নিরাপত্তা বিধি অমান্য করার প্রবণতা কাজ করেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। দুর্ঘটনাগুলোর বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।