রাজনীতি ডেস্ক
সরকার সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন না করলে সংসদ ও সংসদের বাইরে থেকে সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ করা হবে বলে জানিয়েছেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। শনিবার (২১ মার্চ) সকালে রাজধানীর বেরাইদ এলাকার পূর্বপাড়া জামে মসজিদে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, জাতীয় নির্বাচনের পরপরই সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথ গ্রহণের কথা থাকলেও তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। এতে রাজনৈতিক অঙ্গনে এক ধরনের হতাশা তৈরি হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তার মতে, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে এই পরিষদ গঠন করা জরুরি ছিল, যা বাস্তবায়নে বিলম্ব পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলতে পারে।
তিনি আরও বলেন, সরকার যদি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের উদ্যোগ না নেয়, তাহলে ঈদের পর বিরোধীদল সংসদের ভেতরে ও বাইরে সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ করবে। এর মাধ্যমে সরকারকে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বাধ্য করার চেষ্টা করা হবে বলেও জানান তিনি।
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, একটি সরকারের কার্যক্রম মূল্যায়নের জন্য নির্দিষ্ট সময় প্রয়োজন। সে বিবেচনায় বর্তমান সরকারের কিছু উদ্যোগ ইতোমধ্যে দৃশ্যমান হয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন। বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণসহ কিছু সামাজিক কর্মসূচি দ্রুত বাস্তবায়নের বিষয়টি তিনি উল্লেখ করেন।
তবে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া অঙ্গীকারসমূহ বাস্তবায়নে সরকারের ধারাবাহিকতা ও আন্তরিকতা গুরুত্বপূর্ণ। সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন সেই অঙ্গীকারগুলোর অন্যতম প্রধান অংশ হওয়ায় বিষয়টি দ্রুত বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন বলে তিনি মত দেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গটি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত একটি ইস্যু। বিভিন্ন সময়ে নির্বাচন ব্যবস্থা, ক্ষমতার ভারসাম্য এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সংস্কার নিয়ে নানা প্রস্তাব সামনে এসেছে। এ প্রেক্ষাপটে একটি আনুষ্ঠানিক সংস্কার পরিষদ গঠন হলে তা রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপ এবং ঐকমত্য তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
এদিকে বিরোধীদলের পক্ষ থেকে চাপ প্রয়োগের ঘোষণা ভবিষ্যতে রাজনৈতিক কর্মসূচির তীব্রতা বাড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংসদে ও রাজপথে এ ইস্যুকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।