আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানের গ্যাসক্ষেত্রে হামলার পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত ও বাহরাইনকে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকারি সূত্রে জানা গেছে, হামলার সময় বিভিন্ন স্থানে সতর্ক সংকেত বাজানো হয় এবং কয়েকটি এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় উপসাগরীয় অঞ্চলে উদ্বেগ ও নিরাপত্তা সতর্কতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাজধানী রিয়াদের দিকে ছোড়া চারটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আকাশেই প্রতিহত করে ধ্বংস করেছে। ধ্বংস হওয়া ক্ষেপণাস্ত্রের অংশবিশেষ শহরের বিভিন্ন স্থানে পড়ে। তবে এতে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি। একই সময়ে দেশটির পূর্বাঞ্চলে একটি গ্যাস স্থাপনার দিকে আসা একটি ড্রোনও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ভূপাতিত করা হয়েছে, যা লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে পারেনি বলে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।
কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির রাস লাফান শিল্প এলাকায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটে, যা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। ইরানের হামলার পরপরই এ আগুনের সূত্রপাত হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরবর্তীতে দমকল বাহিনী আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
কুয়েতে গত ২৪ ঘণ্টায় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ১৭টি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করার তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলমান সংঘাতের শুরু থেকে এ পর্যন্ত মোট ৪২১টি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। একই সময়ে ৯৪ বার সতর্ক সংকেত বাজানো হয়েছে, যা দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতির ক্রমবর্ধমান চাপকে নির্দেশ করে।
বাহরাইনেও হামলার প্রেক্ষিতে সাইরেন বাজানো হয় এবং দেশটির নাগরিক ও বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়। সরকার জনগণকে দ্রুত নিকটস্থ নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে।
এর আগে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস স্থাপনাগুলোর আশপাশের এলাকা খালি করার নির্দেশ দেয়। এসব স্থাপনাকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে উল্লেখ করা হয়, যা আঞ্চলিক জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর সরাসরি হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে বুধবার ইসরায়েলের হামলার পর থেকেই পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। ওই হামলার প্রতিক্রিয়ায় তেহরান উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দেয়। বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি অবকাঠামোকে কেন্দ্র করে এ ধরনের সামরিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে এবং বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।
এদিকে, কাতার সরকার জ্বালানি স্থাপনায় হামলার ঘটনাকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছে। দেশটি এ ধরনের কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে জানিয়েছে, জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হলে তা শুধু সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জন্য নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সার্বিক পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলো তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রেখেছে। আন্তর্জাতিক মহলও পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে, যাতে সংঘাত আরও বিস্তৃত আকার ধারণ না করে।