আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) স্বেচ্ছাসেবক শাখা ‘বাসিজ’ ফোর্সের কমান্ডার গোলামরেজা সোলেইমানিকে ইসরায়েল হত্যার দাবি করেছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, গত রাতে এক বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়ে তিনি নিহত হয়েছেন।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর প্রকাশিত বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সোলেইমানির মৃত্যু ইরানের ‘কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল’ বা সামরিক নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর ওপর একটি বড় প্রভাব ফেলবে। বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে, ইরান ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং ‘ইরানি কমান্ডারদের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক পদক্ষেপ’ চালানো হবে।
গোলামরেজা সোলেইমানি ছিলেন বাসিজ ফোর্সের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সামরিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন। বাসিজ ফোর্সকে সাধারণত ইরানভিত্তিক সামাজিক ও সামরিক কার্যক্রমে নিয়োজিত রাখে, যার মধ্যে থাকে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, সীমান্ত পর্যবেক্ষণ এবং আঞ্চলিক মিত্রদের সমর্থন।
সোলেইমানির হত্যার দাবি তুলে ধরা এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। ইসরায়েলি পদক্ষেপটি ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কাঠামোতে প্রভাব ফেলতে পারে এবং তেহরানভিত্তিক সামরিক কমান্ডের কর্মকাণ্ডে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।
এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইরান সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। সাধারণত হাই-প্রোফাইল হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্রে তেহরান বিস্তারিত তথ্য যাচাই করে তাদের অবস্থান প্রকাশ করে। এর ফলে সাম্প্রতিক ঘোষণার সত্যতা ও পরিপ্রেক্ষিত স্পষ্ট হওয়া এখনো সময়সাপেক্ষ।
মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা, বিশেষত ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে, অতীতেও উচ্চ পর্যায়ে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। গোলামরেজা সোলেইমানির হত্যার দাবি এ অঞ্চলের রাজনৈতিক ও সামরিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্প্রদায়ের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।