বিনোদন ডেস্ক
বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা শাকিব খানের নতুন সিনেমা ‘প্রিন্স’-এর টিজার সম্প্রতি প্রকাশ করা হয়েছে, যা সিনেমাপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। ঈদুল ফিতরে বড় পর্দায় মুক্তির লক্ষ্যে নির্মিত এই অ্যাকশনধর্মী সিনেমার টিজার দর্শকদের মধ্যে উত্তেজনার সঞ্চার করেছে এবং সিনেমার গল্প, চরিত্র ও প্রযুক্তিগত দিক সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা দিয়েছে।
টিজারটি দেখার পর সিনেমাপ্রেমীরা শাকিব খানের নতুন লুক ও অ্যাকশন দৃশ্য নিয়ে ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু করেছেন। সিনেমার টিজারে নব্বই দশকের ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডের পটভূমিতে গল্পের আভাস পাওয়া গেছে। শাকিব খানের রহস্যময় চরিত্র এবং উত্তেজনাপূর্ণ অ্যাকশন দৃশ্য দর্শকদের আগ্রহ বাড়িয়েছে।
সিনেমার প্রযোজনা সংস্থা ক্রিয়েটিভ ল্যান্ড ফিল্মস জানিয়েছে, ছবিটি ঈদুল ফিতরে মুক্তির পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ চলছে। শাকিব খান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টিজার প্রকাশ করে জানান, “আমার সঙ্গে যে ধান্দা করবে তার জন্য মিষ্টি, আর শত্রুর সঙ্গে যে ধান্দা করবে তার জন্য বুলেটের বৃষ্টি।” এই পোস্টটি দর্শকদের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে।
প্রযুক্তিগত দিক থেকেও ‘প্রিন্স’ একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রজেক্ট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভারতের আলোচিত চলচ্চিত্র ‘এনিমেল’-এর সিনেমাটোগ্রাফার অমিত রায় ছবির সিনেমাটোগ্রাফির দায়িত্বে রয়েছেন। তার কাজ ছবির ভিজ্যুয়াল আকর্ষণ এবং অ্যাকশন দৃশ্যের মান বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে নির্মাণ পক্ষের দাবি।
সিনেমাটিতে শাকিব খানের বিপরীতে অভিনয় করছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী তাসনিয়া ফারিন। এছাড়া কলকাতার একজন অভিজ্ঞ অভিনেতাও ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অংশগ্রহণ করছেন। দুই বাংলার অভিনেতাদের উপস্থিতি এবং আন্তঃসীমান্ত সহকারিতা সিনেমাটির প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি করেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টিজার প্রকাশের পর থেকে ফার্স্টলুক পোস্টার, অ্যাকশন সিকোয়েন্স এবং চরিত্রের নতুন লুক নিয়ে সমালোচক ও ভক্তদের মধ্যে নানা প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষভাবে তরুণ দর্শকরা সিনেমার উত্তেজনাপূর্ণ দৃশ্য এবং গল্পের রহস্যময়তা নিয়ে আলোচনা করছেন।
‘প্রিন্স’-এর মুক্তি বাংলাদেশের চলচ্চিত্র উদ্যোগে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে প্রযোজনা সংস্থা মনে করছে। টিজার প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সিনেমার বিপণন এবং প্রচার কার্যক্রমও ত্বরান্বিত করা হয়েছে। মুক্তির আগে দর্শকদের মধ্যে ইতোমধ্যেই সিনেমার প্রতি আগ্রহ তৈরি হওয়ায় ব্যবসায়িকভাবে এটি ভালো প্রভাব ফেলতে পারে বলে সিনেমা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
সিনেমাটি ঢালিউডের নতুন ট্রেন্ড এবং আন্তর্জাতিক প্রযুক্তিগত সহযোগিতার মিশ্রণে নির্মিত হওয়ায় এ ধরনের প্রজেক্ট ভবিষ্যতে আরও আন্তর্জাতিক মানের চলচ্চিত্র নির্মাণে প্রেরণা জোগাতে পারে।