1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ০৬:১০ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
ওসমান হাদি হত্যা মামলার দুই আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রতিনিধি দল কলকাতায় যাবে প্রধানমন্ত্রীর সংসদীয় আসনে নতুন প্রতিনিধি নিয়োগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য ও ইউজিসি চেয়ারম্যান নিযুক্তি শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের প্রস্তাবনা; তিন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি নিয়োগ চূড়ান্ত বাবুগঞ্জে অবৈধ বালু উত্তোলনে দুই ড্রেজার মালিককে জরিমানা ঢাকা আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা বন্ধের প্রভাব শাকিব খানের নতুন সিনেমা ‘প্রিন্স’-এর টিজার প্রকাশ ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতির দিকে ফেরার পরিকল্পনা করছে সরকার ইরানের সর্বোচ্চ নেতার শারীরিক অবস্থার গোপন সংবাদ: আন্তর্জাতিক সূত্রের দাবি ৪২ জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ: স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় বিতর্কিত পদক্ষেপ

৪২ জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ: স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় বিতর্কিত পদক্ষেপ

রিপোর্টার
  • আপডেট : সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬
  • ৭ বার দেখা হয়েছে

রাজনীতি ডেস্ক

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দেশের ৪২টি জেলা পরিষদে দলীয় ব্যক্তিদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি কেন্দ্র করে বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। রোববার (১৫ মার্চ) রাতে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে জানান, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে দলীয় ও আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য অশনিসংকেত হিসেবে ধরা হচ্ছে।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, স্থানীয় সরকার পরিচালনার মূল ভিত্তি হলো জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমে প্রশাসন পরিচালনা করা। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের পাশ কাটিয়ে প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে কেন্দ্রীয় ও দলীয় নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছে। তিনি উল্লেখ করেন, এ ধরনের নিয়োগনির্ভর ব্যবস্থা জনগণের ভোটাধিকার ও প্রতিনিধিত্বমূলক শাসনের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে এবং নির্বাচনের মাধ্যমে মতামত প্রতিফলিত করার পরিবর্তে ক্ষমতা সংরক্ষণের প্রবণতা বাড়াচ্ছে।

জামায়াত নেতা আরও বলেন, স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করার অজুহাত দেখিয়ে এই পদক্ষেপ আসলে গণতন্ত্রকে দুর্বল করার একটি প্রচেষ্টা। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, জনগণের ভোট ও মতামত উপেক্ষা করে প্রশাসক নিয়োগের এই সিদ্ধান্ত দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। মিয়া গোলাম পরওয়ার মনে করেন, এই পদক্ষেপ সরকারের জন্যও দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক প্রতিকূলতা সৃষ্টি করতে পারে।

তিনি বিবৃতিতে বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবের লক্ষ্য ছিল বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক সমাজ গঠন, গণহত্যার বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার এগিয়ে নেওয়া। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের মাধ্যমে জনগণ প্রত্যাশা করেছিল স্থানীয় সরকারে নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমে শাসন কার্যকর হবে। কিন্তু প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে এই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।’

জামায়াত সরকারকে অনুরোধ করেছে অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত বাতিল করতে এবং জেলা পরিষদে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে দায়িত্ব অর্পণ করতে। পাশাপাশি দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণকে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় তাদের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

স্থানীয় সরকার খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হওয়ায় স্থানীয় পর্যায়ে জনপ্রতিনিধিদের কার্যকারিতা সীমিত হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এটি স্থানীয় জনসেবার মান এবং গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সরকারি নীতি পর্যবেক্ষকরা মন্তব্য করছেন, দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের এই ধরণের পদক্ষেপগুলো স্থানীয় শাসন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা বাড়ানোর পরিবর্তে কেন্দ্রীভূত নিয়ন্ত্রণকে প্রাধান্য দিচ্ছে, যা স্থানীয় গণতন্ত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপটে উদ্বেগের বিষয়।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, এই নিয়োগ প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে নতুন প্রশাসকরা দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই পদক্ষেপ স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে। তবে রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের কিছু অংশ এটিকে অগণতান্ত্রিক হিসেবে দেখছেন এবং স্থানীয় নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার বিতরণ পুনঃস্থাপনের দাবি করছেন।

উল্লেখ্য, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলি স্থানীয় উন্নয়ন, জনসেবা ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণের জন্য মূল কাঠামো হিসেবে কাজ করে। প্রশাসক নিয়োগের মতো পদক্ষেপের ফলে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ভূমিকা সীমিত হলে স্থানীয় পর্যায়ের জনমত ও অংশগ্রহণ প্রভাবিত হতে পারে। এই বিষয়টি আগামী দিনগুলোতে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026