আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইসরাইলের নাজারেথ শহরের নিকটে জারজির গ্রামে শুক্রবার রাতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কমপক্ষে ৩৩ জন আহত হয়েছেন। ইসরাইলি সরকারি টেলিভিশন সূত্রে জানা গেছে, আহতদের মধ্যে ছয়জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছে ১২ এবং ১৩ বছর বয়সি দুটি শিশু। তবে এই হামলায় কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
হামলায় কয়েকটি বাড়িঘর এবং যানবাহর ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। কিছু গাড়িতে আগুন লেগে যায়। ইসরাইলি কর্মকর্তারা জানান, হামলার সময় ভোর ২টা ৩০ মিনিটে বিমান সতর্কতার সাইরেন বেজে ওঠে, যার পরপরই ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানতে শুরু করে।
স্থানীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, ইরানের হামলার পাশাপাশি লেবাননের সীমান্তের উত্তরে অবস্থানরত হিজবুল্লাহ বাহিনীও একই সময়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। হামলার প্রকৃত সংখ্যা ও বিস্তৃতি সম্পর্কে তদন্ত চলছে।
এ ঘটনার প্রেক্ষাপটে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী চলমান উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালানোর পর থেকে ইরান ইসরাইল ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মার্কিন স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের প্রতিশোধমূলক হামলা উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
ইসরাইলি কর্মকর্তারা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা সক্রিয় রাখার পাশাপাশি আহতদের চিকিৎসা এবং প্রাথমিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছেন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং স্থানীয় প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পুনর্বাসন ও জরুরি সহায়তা প্রদানে কাজ করছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই উত্তেজনা দীর্ঘমেয়াদী শান্তি প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলতে পারে। ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলার ধারা এ অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলেছে।