ক্রীড়া প্রতিবেদক
পাকিস্তানের বিপক্ষে রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয়ের পর বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল এখন ফুরফুরে মেজাজে আছে। এই জয় বাংলাদেশকে ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে নিয়েছে; আগের দশ নম্বর থেকে উঠে নবম স্থানে অবস্থান করছে লাল-সবুজরা। পাকিস্তানকে হারিয়ে বাংলাদেশ তিন রেটিং পয়েন্ট অর্জন করেছে, যা দলের জন্য বিশ্বকাপ সরাসরি অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিয়েছে। এই অবস্থান ধরে রাখতে পারলে আগামী বছরের মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশ সরাসরি ২০২৭ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপে খেলার যোগ্য হবে।
আগামী ১৩ এপ্রিল মিরপুরে শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। সিরিজের অন্যান্য ম্যাচ ১৭, ২০ ও ২৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে। ওয়ানডের পর অনুষ্ঠিত হবে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ, যা ২৭ ও ২৯ এপ্রিল এবং ২ মে অনুষ্ঠিত হবে। তবে র্যাঙ্কিংয়ের হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশের জন্য ওয়ানডে সিরিজই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
নিউজিল্যান্ড দল বেশ কয়েকজন মূল খেলোয়াড়কে ছাড়াই বাংলাদেশ সফরে আসছে। আইপিএল ও পিএসএলের ব্যস্ত সূচির কারণে নিউজিল্যান্ড দলে নেই অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার, রাচিন রবীন্দ্র, গ্লেন ফিলিপস, টিম সাইফার্ট, ফিন অ্যালেন, কাইল জেমিসন, জেকব ডাফি ও লকি ফার্গুসন। এছাড়া পাকিস্তান সুপার লিগে ব্যস্ত থাকায় মার্ক চ্যাপম্যান ও ড্যারিল মিচেলও এই সিরিজে খেলবেন না। ফলে নিউজিল্যান্ড স্কোয়াড তরুণ ও অনভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের নিয়ে গঠিত হতে পারে। দলের দুই কোচও পিএসএলে যুক্ত থাকায় বাংলাদেশ সফরে উপস্থিত থাকবেন না।
অপরদিকে, বাংলাদেশ দল এই সিরিজে সম্পূর্ণ শক্তিশালী দল মাঠে নামানোর পরিকল্পনা করছে। দল পরিচালনা ব্যুরোর ধারণা, প্রতিটি ম্যাচ ও রেটিং পয়েন্টই ২০২৭ সালের বিশ্বকাপে সরাসরি অংশ নেওয়ার পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাই ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের তারকাবিহীন দলকে মোকাবিলা করে র্যাঙ্কিংয়ে আরও উন্নতি করার সুযোগ বাংলাদেশ দলের জন্য উন্মুক্ত।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সিরিজে ঘরের মাঠের সুবিধা, নিউজিল্যান্ডের প্রথম সারির তারকাদের অনুপস্থিতি এবং বাংলাদেশের পূর্ণদলের প্রস্তুতি মিলিয়ে বাংলাদেশকে সিরিজ জয়ের বড় সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশের জন্য এই সিরিজ কেবল জয়ের জন্য নয়, বরং ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ের অবস্থান মজবুত করারও একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ।
সিরিজের ফলাফল ও প্রতিটি ম্যাচের পারফরম্যান্স আগামী মাসে বাংলাদেশ ক্রিকেটের আন্তর্জাতিক অবস্থান ও বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার সম্ভাবনায় উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে।