আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরু হয়ে টানা ১৭ দিন ধরে চলেছে। চলতি মাসের মধ্যেই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, এই হামলার নেপথ্যে ইসরায়েল ও সৌদি আরবের প্রভাব রয়েছে। হামলার সূচনা ও অব্যাহত রাখার বিষয়ে দেশ দুটি মার্কিন প্রশাসনের ওপর প্রভাব প্রয়োগ করেছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের বরাতে জানা যায়, হামলা শুরুর আগে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান প্রকাশ্যে কূটনীতির সমর্থন জানিয়েছিলেন এবং সৌদির ভূখণ্ড ব্যবহার করে তেহরানে হামলা চালানো যাবেনা বলে মন্তব্য করেছিলেন। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ব্যক্তিগত কথোপকথনে যুবরাজ ভিন্ন মনোভাব প্রকাশ করতেন। তিনি ট্রাম্পকে সতর্ক করতেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র পদক্ষেপ নিলে পরিণতি গুরুতর হতে পারে।
এদিকে, নিউ ইয়র্ক টাইমসের রোববারের (১৫ মার্চ) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি যুবরাজ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে আহ্বান জানিয়েছেন ইরানে হামলা কঠোরভাবে অব্যাহত রাখার জন্য। হোয়াইট হাউজের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্রাম্প নিয়মিত আরব নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন, বিশেষ করে সৌদি যুবরাজের সঙ্গে। সূত্রের বরাতে জানা যায়, যুবরাজ ট্রাম্পকে পরামর্শ দিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্র যেন ইরানিদের ওপর কঠোর হামলা অব্যাহত রাখে।
মার্কিন কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন সৌদি আরবের প্রয়াত রাজা আব্দুল্লাহর একটি নির্দেশনা এখন পুনরায় বিবেচনা করছে। এই নির্দেশনা অনুসারে, শত্রু দেশের মূল উৎস বা নেতৃত্বকে পুরোপুরি নির্মূল করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানে চলমান হামলা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে জটিল করেছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের এই যৌথ পদক্ষেপ ইরানের নিরাপত্তা ও সামরিক কৌশলের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। পাশাপাশি, সৌদি আরবের কূটনৈতিক ও সামরিক প্রভাবের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে হামলা অব্যাহত রাখতে অনুরোধের বিষয়টি অঞ্চলে শক্তির ভারসাম্য ও আন্তর্জাতিক কূটনীতির ক্ষেত্রে নতুন প্রশ্নচিহ্ন তুলেছে।
ইরানের ওপর এই ধরনের হামলা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মহলে স্থিতিশীলতা সংকট তৈরি করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই যৌথ কর্মকাণ্ডে নিরাপত্তা ও মানবাধিকার বিষয়ক জটিলতা আরও বাড়তে পারে। এছাড়া, সৌদি আরবের ভূমিকা এবং তার নির্দেশনা অনুসারে নেওয়া পদক্ষেপগুলোর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব কেবল মধ্যপ্রাচ্যেই নয়, বিশ্ব রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।
এই ঘটনার ফলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর এখন মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির দিকে আরও বেশি ঘুরছে। মার্কিন প্রশাসন এবং সৌদি আরবের মধ্যে চলমান কৌশলগত সমন্বয়, এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিবিধি, আন্তর্জাতিক নীতি ও কূটনীতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।