1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ০৬:১৪ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
ওসমান হাদি হত্যা মামলার দুই আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রতিনিধি দল কলকাতায় যাবে প্রধানমন্ত্রীর সংসদীয় আসনে নতুন প্রতিনিধি নিয়োগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য ও ইউজিসি চেয়ারম্যান নিযুক্তি শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের প্রস্তাবনা; তিন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি নিয়োগ চূড়ান্ত বাবুগঞ্জে অবৈধ বালু উত্তোলনে দুই ড্রেজার মালিককে জরিমানা ঢাকা আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা বন্ধের প্রভাব শাকিব খানের নতুন সিনেমা ‘প্রিন্স’-এর টিজার প্রকাশ ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতির দিকে ফেরার পরিকল্পনা করছে সরকার ইরানের সর্বোচ্চ নেতার শারীরিক অবস্থার গোপন সংবাদ: আন্তর্জাতিক সূত্রের দাবি ৪২ জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ: স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় বিতর্কিত পদক্ষেপ

নিউইয়র্ক সিটি মেয়রের স্ত্রীর চিত্রকর্ম নিয়ে বিতর্ক

রিপোর্টার
  • আপডেট : সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬
  • ৬ বার দেখা হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি তার স্ত্রীর পুরনো চিত্রকর্মকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্কের মুখে পড়েছেন। মামদানির স্ত্রী, ফ্রিল্যান্স চিত্রশিল্পী রামা দুওয়াজি, ফিলিস্তিনি লেখক সুসান আবুলহাওয়ার সংকলিত একটি রচনার জন্য চিত্রকর্ম তৈরি করেছিলেন, যা পরে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।

প্রায় ২৮ বছর বয়সী দুওয়াজি চিত্রকর্মটি একটি তৃতীয় পক্ষের কাছ থেকে পেয়েছিলেন এবং কখনো আবুলহাওয়ার সঙ্গে সরাসরি দেখা বা যোগাযোগ করেননি। আবুলহাওয়াও পরে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। চিত্রকর্মটি মূলত গাজার বাস্তুচ্যুত একজন বাসিন্দার ছোটগল্প ‘এ ট্রেইল অব সোপ’-এর সঙ্গে সম্পর্কিত। গল্পটি গাজার সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সংগ্রাম ও যুদ্ধের প্রভাব তুলে ধরে।

বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে আবুলহাওয়ার কিছু পুরনো সামাজিক মাধ্যম পোস্ট, যা নিয়ে কিছু সমালোচক ইহুদি-বিদ্বেষী মন্তব্যের অভিযোগ তুলেছেন। আবুলহাওয়া এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং বলেছেন, তার বক্তব্য একজন ফিলিস্তিনির দৃষ্টিকোণ থেকে যুদ্ধের বাস্তবতার বর্ণনা।

মেয়র মামদানি একটি সংবাদ সম্মেলনে এসব মন্তব্যকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ ও ‘ঘৃণ্য’ আখ্যায়িত করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন, তার প্রশাসন সকল ধরনের গোঁড়ামি ও বিদ্বেষের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেয়। তবে তার প্রতিক্রিয়ার পর কিছু সমর্থক বলছেন, মেয়র ফিলিস্তিনপন্থী সমর্থনকে ইহুদি-বিরোধিতার সঙ্গে মেলানোর ক্ষতিকর ধারণাকে শক্তিশালী করছেন।

চিত্রকর্ম ও সামাজিক মাধ্যমে বিতর্কের প্রেক্ষাপটে, মেয়র মামদানির সমালোচনার পাশাপাশি ধর্ম ও রাজনৈতিক পরিচয়ও আলোচ্য বিষয় হয়েছে। রিপাবলিকান সিনেটর টমি টিউবারভিল মেয়রের ধর্মবিশ্বাসকে নিয়ে মন্তব্য করেছেন এবং কিছু সামাজিক মাধ্যমে ইসলামোফোবিয়ার আক্রমণ ঘটিয়েছেন। মামদানির প্রশাসন ইতিমধ্যেই বিভিন্ন সময়ে ইসলামোফোবিয়ার অভিযোগ মোকাবিলা করেছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই বিতর্ক রাজনৈতিক ও সামাজিক দিক থেকে জটিল। একদিকে চিত্রকর্ম ও শিল্পী স্বাধীনতা, অন্যদিকে রাজনৈতিক নেতার ব্যক্তিগত ও প্রশাসনিক অবস্থানের সাথে ধর্ম ও জাতিগত সংবেদনশীলতা যুক্ত হওয়ার কারণে বিষয়টি দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

মেয়র মামদানির প্রশাসনও জোর দিয়ে বলেছে, কোনও ব্যক্তি বা শিল্পীর কাজের জন্য রাজনৈতিক নেতাকে দোষারোপ করা উচিত নয়। তবে সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো মন্তব্য ও মিডিয়ার ব্যাখ্যা রাজনৈতিক চাপে পরিণত হতে পারে, যা প্রশাসনিক নীতি এবং নেতার প্রকাশ্য অবস্থানের সঙ্গে সম্পর্কিত।

এ ঘটনার ফলে নিউইয়র্ক সিটি রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে চিত্রকর্ম, সামাজিক মাধ্যম ও ব্যক্তিগত বিবেকের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করছেন, শহরের প্রশাসন এবং রাজনৈতিক নেতাদের জন্য এটি শিক্ষণীয় যে, ব্যক্তিগত ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড রাজনৈতিক সমালোচনার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে এবং এ ধরনের বিতর্কের সময় তথ্য যাচাই ও স্পষ্ট ব্যাখ্যা গুরুত্বপূর্ণ।

মোটের উপর, মামদানির স্ত্রীর চিত্রকর্মকে কেন্দ্র করে তৈরি বিতর্ক রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে নিউইয়র্ক সিটির জন্য একটি সংবেদনশীল ইস্যু হিসেবে দেখা যাচ্ছে, যা প্রশাসন ও সাধারণ জনগণের মধ্যে সুশৃঙ্খল সমাধানের প্রয়োজনীয়তাকে আরও প্রাধান্য দিচ্ছে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026