অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
দেশে জ্বালানি তেল বিক্রির ওপর আরোপিত সব ধরনের বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। রোববার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আসন্ন ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করা এবং কৃষিখাতে সেচ কার্যক্রম সচল রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, জ্বালানি তেল সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় পূর্বে আরোপিত সীমাবদ্ধতা প্রত্যাহার করা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, সম্প্রতি জ্বালানি তেলবাহী কয়েকটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে এবং সেখান থেকে পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন ডিপোতে তেল সরবরাহ শুরু হয়েছে। এর ফলে বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা সম্ভব হচ্ছে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও দামের ওঠানামা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিতিশীলতার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে। এর প্রভাব পড়ে বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায়ও। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার গত ৬ মার্চ থেকে জ্বালানি তেল বিক্রির ক্ষেত্রে বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা আরোপ করে।
সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শুরুতে মোটরসাইকেলের জন্য জ্বালানি তেল কেনার সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হয় ২ লিটার। তবে পরবর্তীতে রাইড শেয়ারিং সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চালকদের প্রয়োজন বিবেচনায় ১০ মার্চ এই সীমা বাড়িয়ে ৫ লিটার করা হয়। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ প্রায় ২৫ শতাংশ কমিয়ে দেওয়া হয়, যাতে বিদ্যমান মজুত দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবস্থাপনা করা সম্ভব হয়।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিভাগীয় শহরগুলোতে পরবর্তীতে এই বিধিনিষেধ কিছুটা শিথিল করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ধাপে ধাপে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হয়েছিল, যাতে পরিবহন খাত, কৃষি এবং জরুরি পরিষেবাগুলোতে বড় ধরনের প্রভাব না পড়ে।
বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের একটি বড় অংশ আমদানিনির্ভর। আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতির ওপর দেশের জ্বালানি ব্যবস্থাপনা অনেকাংশে নির্ভরশীল। এ কারণে বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা দেখা দিলে দেশের ভেতরেও সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় সাময়িক চাপ তৈরি হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে সরবরাহ ব্যবস্থাপনা ও মজুত সংরক্ষণের লক্ষ্যে সরকার মাঝে মধ্যে নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করে থাকে।
সাম্প্রতিক সীমাবদ্ধতা প্রত্যাহারের ফলে এখন থেকে গ্রাহকেরা ফিলিং স্টেশনগুলো থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি তেল সংগ্রহ করতে পারবেন। এতে ব্যক্তিগত যানবাহন ব্যবহারকারী, গণপরিবহন এবং পণ্য পরিবহন খাতের জন্য স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা সহজ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
এছাড়া দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বর্তমানে সেচ মৌসুম চলমান থাকায় কৃষিখাতে ডিজেলের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। সেচ পাম্প চালু রাখতে পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা কৃষি উৎপাদনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করেছেন। সরকার মনে করছে, জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় সেচ কার্যক্রম নির্বিঘ্নভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।
একই সঙ্গে সামনে ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে রাজধানী ও বড় শহরগুলো থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ নিজ নিজ গ্রামে যাতায়াত করেন। এই সময়ে সড়ক, নৌ ও অন্যান্য পরিবহন ব্যবস্থায় জ্বালানি তেলের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। সেই বিষয়টি বিবেচনায় রেখে জ্বালানি তেল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে সরকার জানিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জ্বালানি তেলের সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আমদানি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।