অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত রোববার (১৫ মার্চ) রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে দেশব্যাপী জ্বালানি তেল বিক্রির ওপর আরোপিত সব ধরনের বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানান, এই সিদ্ধান্ত মূলত আসন্ন ঈদযাত্রা সুষ্ঠু সম্পন্ন করা এবং কৃষিখাতে সেচ কার্যক্রম নির্বিঘ্নে পরিচালনার জন্য নেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, জ্বালানি তেলবাহী কয়েকটি জাহাজ ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে, যার ফলে দেশে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ায় সেচ মৌসুমে কৃষকদের কার্যক্রমসহ ঘরমুখো যাত্রীদের চলাচলে যথেষ্ট স্বস্তি ফিরে আসবে।
গত কয়েক সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় দেশেও জ্বালানি তেলের অভাব ও সরবরাহজনিত উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। এর প্রেক্ষিতে সরকার গত ৬ মার্চ থেকে জ্বালানি তেল বিক্রির ওপর বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা আরোপ করে।
প্রথমে মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীদের জন্য জ্বালানি তেলের ক্রয়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল মাত্র দুই লিটার। এরপর, রাইড শেয়ারিং সেবা বিবেচনায় ১০ মার্চ এ সীমা পাঁচ লিটারে উন্নীত করা হয়। একই সঙ্গে, ফিলিং স্টেশনগুলোতে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ প্রাথমিকভাবে ২৫ শতাংশ কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল, যা পরবর্তীতে বিভাগীয় শহরগুলিতে কিছুটা শিথিল করা হয়।
এবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের সব ফিলিং স্টেশনে গ্রাহকরা প্রয়োজন অনুযায়ী সীমাহীনভাবে জ্বালানি তেল ক্রয় করতে পারবেন। এতে বিশেষভাবে সেচ মৌসুমে কৃষকদের কার্যক্রম ও ঈদের আগে ঘরমুখো যাত্রীদের যাতায়াতের উপর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে প্রতিমন্ত্রীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, এই ধরনের বিধিনিষেধ শিথিলকরণ স্থানীয় বাজারে সরবরাহ পুনরায় স্বাভাবিক করতে এবং দাম স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এছাড়া, জ্বালানি তেলের সহজলভ্যতা সরাসরি কৃষি উৎপাদন ও ভোক্তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সরকারের এই উদ্যোগকে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে, সেচ মৌসুম এবং ঈদযাত্রা চলাকালীন সময়ে এ ধরনের নীতিমূলক সিদ্ধান্ত স্থানীয় জনসাধারণের সুবিধা নিশ্চিত করবে।