ক্রীড়া প্রতিবেদক
এএফসি নারী এশিয়ান কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে দক্ষিণ কোরিয়া ও চীন নিজেদের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে এবং আসন্ন ফিফা নারী বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। অস্ট্রেলিয়ার সিডনির অলিম্পিক পার্ক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়া উজবেকিস্তানকে ৬-০ গোলে পরাজিত করে। অপর কোয়ার্টার ফাইনালে চীন অতিরিক্ত সময়ে চায়নিজ তাইপেকে ২-০ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে।
দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য ম্যাচটি শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রণে ছিল। নবম মিনিটে সন ওয়া-ইউন দলকে এগিয়ে দেন। ২০ মিনিটে কো ইউ-জিন ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। বিরতির পর, ৫৭ মিনিটে পার্ক সো-জিওন ব্যবধান ৩-০ করেন। ৭২ মিনিটে জি সো-উয়ুন দলের চতুর্থ গোল করেন। ৮৫ মিনিটে লি ইয়ুন-ইয়াং পাঁচ গোল নিশ্চিত করেন এবং যোগ করা সময়ে জেন সেই-গি পেনাল্টি থেকে ষষ্ঠ গোলটি করেন। ছয়টি গোলই ছয় ভিন্ন ফুটবলারের কৃতিত্ব। এই জয়ে দক্ষিণ কোরিয়া নিশ্চিত করেছে ফিফা নারী বিশ্বকাপের টিকিট এবং পরবর্তী সেমিফাইনালে জাপান ও ফিলিপাইনের মধ্যকার বিজয়ীর সঙ্গে মুখোমুখি হবে।
অপরদিকে, চায়নিজ তাইপে চীনের রক্ষণে দমবন্ধকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করলেও, চীনের আক্রমণ অব্যাহত থাকে। চীনের ৩০ শটের বিপরীতে তাইপে মাত্র দুই শট নিতে সক্ষম হয়। নির্ধারিত সময় পর্যন্ত গোলমুখ খুলতে না পারলেও, অতিরিক্ত সময়ে ৯৪তম মিনিটে জিকিন শাও চীনের প্রথম গোল করেন। ১১৮তম মিনিটে চায়নিজ তাইপের ইনঘুই চেনের আত্মঘাতী গোল চীনের জয় প্রায় নিশ্চিত করে। শেষ পর্যন্ত চীনের জয় ২-০ গোলে চূড়ান্ত হয়।
এএফসি নারী এশিয়ান কাপের ফলাফল সরাসরি ফিফা নারী বিশ্বকাপের যোগ্যতাকেও প্রভাবিত করেছে। ইতিমধ্যেই অস্ট্রেলিয়া, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়া বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। আজ জাপান ও ফিলিপাইনের মধ্যকার কোয়ার্টার ফাইনালের বিজয়ী দলও বিশ্বকাপের সরাসরি টিকিট পাবে। পরাজিত দলটি প্লে-অফে উজবেকিস্তানের সঙ্গে মুখোমুখি হবে। এছাড়া কোয়ার্টার ফাইনালে হারা চায়নিজ তাইপে ও উত্তর কোরিয়ার দলও একটি প্লে-অফ ম্যাচ খেলবে। এই দুই প্লে-অফের বিজয়ী দল ২০২৭ সালে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিতব্য ফিফা নারী বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করবে।
এই আসরকে কেবল এশিয়ান কাপ হিসেবে নয়, বরং বিশ্বকাপের সরাসরি যোগ্যতা নির্ধারণী গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। শেষ চারের দলে দক্ষিণ কোরিয়া, চীন, অস্ট্রেলিয়া এবং জাপান বা ফিলিপাইন নিশ্চিতভাবে জায়গা করে নেবে, যা এশিয়ার ফুটবলে উচ্চ মানের প্রতিযোগিতা ও ভবিষ্যতের পরিকল্পনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দেয়।
দক্ষিণ কোরিয়ার দারুণ দলগত নৈপুণ্য এবং চীনের অতিরিক্ত সময়ে জয় এই দুই দলকে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করতে সহায়তা করেছে। আগামী সেমিফাইনাল ও প্লে-অফের ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে ফিফা নারী বিশ্বকাপের বাকি সরাসরি যোগ্যতা এবং দলগুলোর স্থান নির্ধারণ।