অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
সরকারী সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গণপরিবহনের জন্য জ্বালানি তেলের রেশনিং ব্যবস্থা আর থাকছে না। এতে দূরপাল্লা ও স্থানীয় গণপরিবহনের বাসগুলো আগের মতোই পর্যাপ্ত অকটেন-পেট্রোল সরবরাহ পাবে।
শনিবার (১৪ মার্চ) রাজধানীর গুলিস্তানে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, ঈদ উপলক্ষে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনের বিদ্যমান রেশনিং ব্যবস্থা প্রত্যাহার করা হয়েছে। তিনি বলেন, “রাত থেকে দূরপাল্লা ও গণপরিবহনের তেলের রেশনিং আর থাকবে না। বাসগুলো পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ পাবে। আগামীকাল সকালেই এ বিষয়ে সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিকভাবে চলবে।”
এর আগে সরকারের নির্দেশনায় রেশনিং শুরু হওয়ার সময় মোটরসাইকেলের জন্য দৈনিক ২ লিটার, স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিকেল (এসইউভি) ও মাইক্রোবাসের জন্য ২০–২৫ লিটার তেলের সরবরাহ নির্ধারণ করা হয়েছিল। পিকআপ ভ্যান বা স্থানীয় বাসের জন্য ৭০–৮০ লিটার এবং দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান বা কন্টেইনার ট্রাকের জন্য ২০০–২২০ লিটার দৈনিক তেল বিক্রির সীমা নির্ধারিত হয়েছিল। পরে রেশনিং কিছুটা শিথিল করে মোটরসাইকেলের তেল সীমা দৈনিক ৫ লিটারে উন্নীত করা হয়। এছাড়া সামগ্রিক রেশনিং ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশে নামানো হয়েছিল।
সেতুমন্ত্রী জানান, ঈদে ঘরমুখো মানুষের চাপ এবং যাতায়াতের বাড়তি প্রয়োজন বিবেচনায় এখন সরকার পুরোপুরি রেশনিং ব্যবস্থা তুলে নিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে যানবাহন অপারেটররা আগের মতো স্বাভাবিকভাবে তেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারবেন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দেশের বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতিতে রেশনিং প্রত্যাহার হলে ঈদ যাত্রায় যানজট এবং যাত্রী চাপ সামলানো সহজ হবে। তবে তেলের স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় রাখার জন্য প্রশাসনিক তদারকি ও তেল স্টেশনের পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরকারের এই পদক্ষেপ তেলের বাজারে স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি গণপরিবহনের কার্যক্রমকে ঈদ ছুটির সময় চরম চাপ মোকাবেলায় সহায়তা করবে। পাশাপাশি এটি যাত্রী ও ব্যবসায়ীদের জন্য অপ্রত্যাশিত সংকট এড়াতে সাহায্য করবে।
পরিবহন খাতের সংশ্লিষ্টরা জানান, রেশনিং প্রত্যাহারের পর বাস ও ট্রাকগুলো আগের মতো সরাসরি তেল সংগ্রহ করতে পারবে, যা স্বাভাবিক চলাচলের ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তবে তারা মনে করাচ্ছেন, তেলের সরবরাহ চাহিদা অনুযায়ী বজায় রাখার জন্য সরকারি তদারকি এবং পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করা অপরিহার্য।
এর ফলে দেশের জ্বালানি বাজারে স্বাভাবিকতা ফিরে আসার পাশাপাশি ঈদযাত্রায় যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে সুষ্ঠু ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের সম্ভাবনা তৈরি হবে।