রাজনীতি ডেস্ক
ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস হঠাৎ অসুস্থ হয়ে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গত বুধবার রাতে অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারালে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তার মস্তিষ্কে দ্বিতীয় দফার অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে এবং অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে বলে চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মির্জা আব্বাসের দ্রুত সুস্থতার জন্য সকলের দোয়া কামনা করেছেন। তিনি লিখেছেন, “আপনাদের সবার দোয়ায় বরেণ্য রাজনীতিবিদ মির্জা আব্বাস এমপি’র দুটো অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বর্তমানে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। আব্বাস ভাইয়ের পরিপূর্ণ সুস্থতার জন্য সবাই দোয়া করবেন।”
অপারেশনের সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং মির্জা ফখরুল নিজে হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া জুমার নামাজের পর বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমানও এভারকেয়ার হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন এবং মেডিকেল বোর্ডের পক্ষ থেকে বিস্তারিত অবহিত হন।
উন্নত চিকিৎসার জন্য মির্জা আব্বাসকে সিঙ্গাপুর নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় দেশে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রথম দফার অস্ত্রোপচার বিকেল ৩টার পর সম্পন্ন হয় এবং এরপর তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। সন্ধ্যার পর দ্বিতীয় দফার অস্ত্রোপচারও সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
মির্জা আব্বাসের চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডে ছিলেন অধ্যাপক আলী উজ্জামান জোয়ার্দার, অধ্যাপক কাজী দ্বীন মোহাম্মদ, অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদার, অধ্যাপক রাজিউল হক, সৈয়দ অধ্যাপক সাঈদ আহমেদ, অধ্যাপক কাদের শেখ এবং অধ্যাপক শফিকুল ইসলামসহ এভারকেয়ার হাসপাতালের অন্যান্য চিকিৎসক। তারা তার শারীরিক অবস্থার তদারকি অব্যাহত রেখেছেন।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অস্ত্রোপচার সফল হলেও মির্জা আব্বাসের সম্পূর্ণ সুস্থতার জন্য কয়েক দিনের নিবিড় পর্যবেক্ষণ এবং বিশ্রামের প্রয়োজন। রাজনৈতিক মহলে তার অসুস্থতা উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। মির্জা ফখরুলের আহ্বান অনুযায়ী, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সমর্থকরা তাঁর সুস্থতার জন্য সক্রিয়ভাবে দোয়া করছেন।
এদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যতক্ষণ পর্যন্ত তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ হবেন না, চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ চলবে। মেডিকেল বোর্ড তার দ্রুত পুনর্বাসন নিশ্চিত করার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। মির্জা আব্বাসের সুস্থতা দেশে রাজনৈতিক কার্যক্রমে তার পুনরায় অংশগ্রহণের পথকে সহজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।