ক্রীড়া ডেস্ক
জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারপ্রাপ্ত অ্যাথলেট ও ক্রীড়া প্রশাসক শামিমা সাত্তার মিমু শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাত ১১টায় ঢাকায় নিজ বাসভবনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে তিনি বাত ও হৃদরোগজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। তাঁর শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী তাকে দিনাজপুরে বাবার কবরের পাশে দাফন করা হবে।
শামিমা সাত্তার মিমু দীর্ঘ কর্মজীবনে বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের কার্যনির্বাহী সদস্য এবং বিকেএসপির উপ-পরিচালক (প্রশিক্ষণ) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি দেশের অ্যাথলেটিকস খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। মাঠে একাধিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের পাশাপাশি অ্যাথলেটদের প্রশিক্ষণ ও ক্রীড়া প্রশাসনেও সক্রিয় ছিলেন।
অ্যাথলেটিকসে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০০ সালে তিনি জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারে ভূষিত হন। এছাড়া বাংলাদেশ ক্রীড়া লেখক সমিতি এবং বাংলাদেশ স্পোর্টস জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন তাঁকে সেরা অ্যাথলেট হিসেবে সম্মানিত করেছে। ক্রীড়াবিদ ও সংগঠক হিসেবে তিনি ‘অনন্যা শীর্ষ দশ’ সম্মাননা, কবি নূরল আমিন স্বর্ণপদক এবং বাংলাদেশ নারী উদ্যোগ কেন্দ্রের স্বর্ণপদকও লাভ করেছেন।
শামিমা সাত্তার মিমুর মৃত্যুতে বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য, কর্মকর্তা, কোচ ও অ্যাথলেটরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, তিনি ক্রীড়া জগতের একজন প্রতিভাবান ও নিবেদিতপ্রাণ নেত্রী ছিলেন, যিনি দেশের অ্যাথলেটিকসকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিতে অবদান রেখেছেন।
তার কর্মকাণ্ড ও অর্জন দেশের নারী অ্যাথলেটদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে বিবেচিত। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, তিনি ক্রীড়া প্রশিক্ষণ ও প্রশাসনের ক্ষেত্রে যে মানদণ্ড স্থাপন করেছিলেন, তা দীর্ঘকাল ধরে শিক্ষণীয় হয়ে থাকবে। তার মৃত্যু ক্রীড়া সমাজে একটি শূন্যতা সৃষ্টি করেছে।